আমার কাগজ প্রতিনিধি
প্রবাসে ১১ বছর কাটিয়ে প্রথমবারের মতো দেশে ফিরছিলেন আরিফ হোসেন। তাই মা, ভাই-বোন, সঙ্গে ভাগ্নে-ভাগ্নি বিমানবন্দরে গিয়েছিল তাকে আনতে।
কিন্তু কেউই আর বাড়ি ফিরল না, ফেরার পথে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে তাদের বহনকারী প্রাইভেট কার ট্রাকে ধাক্কা দিলে প্রাণ হারিয়েছেন আরিফ, তার মা-ভাইবোনসহ পাঁচজন। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ভাগ্নে-ভাগ্নি।
আর এক দুর্ঘটনাতেই স্ত্রী-তিন সন্তান হারিয়ে পুরোপুরি একা হয়ে গেলেন তাদের ফেরার অপেক্ষায় যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার খোশালনগর গ্রামের বাড়িতে থাকা শহিদুল ইসলাম।
এর আগে মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয় একটি প্রাইভেটকার। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং অন্যরা গুরুতর আহত হন।
নিহতরা হলেন, খোশালনগর গ্রামের শহিদুল ইসলামের বড় ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফ হোসেন (৩০), ছোট ছেলে রাকিব হোসেন (২০), মেয়ে আয়শা খাতুন (৩৫), স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৫৫) এবং প্রাইভেটকার চালক মনিরামপুর উপজেলার চালুহাটি গ্রামের জাহিদ হোসেন (৩৫)।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আয়শা খাতুনের ছেলে হুসাইন (৮) ও মেয়ে তাসফিয়া খাতুন (৩)। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ দুর্ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে খোশালনগর ও আশপাশের গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
নিহতদের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মোসলেম আলী এবং আবুল বাশার আবু বলেন, শহিদুল ইসলামের বড় ছেলে আরিফ ১১ বছর আগে মালয়েশিয়া গিয়েছিল। প্রবাসে যাওয়ার পর এই প্রথম আরিফ দেশে ফিরছে, তাই তাকে রিসিভ করতে পরিবারের সদস্যরা সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান।
পরে আরিফকে নিয়ে গভীর রাতে নিয়ে প্রাইভেটকারে করে বাড়ির পথে রওয়ানা হন তারা। কিন্তু পথে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে শহিদুল ইসলাম তার পুরো পরিবারকে হারালেন।
ঝিকরগাছা থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া হাসান বলেন, “খবর জানতে পেরে নিহতদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্বজনরা ঘটনাস্থলে গেছেন বলে জানতে পেরেছি।”
