নেত্রকোণা প্রতিনিধি
নেত্রকোণা শহরে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তার স্বামী ও ছেলে গুরুতর জখম হয়েছেন।
সোমবার রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে শহরের কাটলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার জানান।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন রশিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের দিয়েছে। পেশায় রিকশাচালক রশিদ ওই এলাকারই বাসিন্দা।
নিহত মনোয়ারা বেগম (৫৫) ওই এলাকার আবু চাঁনের (৬০) স্ত্রী।
এ ঘটনায় আবু চাঁন ও তার ছেলে মুন্না মিয়া (২৫) গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর পরই থানা পুলিশ ও পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা তদন্ত শুরু করেছেন।
নিহতের মেয়ে লিজা মণি বলেন, রাত ৯টার দিকে তিনি বাসায় ঢুকে দেখেন বাবা ও ভাইকে রশিদ মিয়া কুপিয়ে আহত করেছেন। এ সময় তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে।
তারা আবু চাঁন ও মুন্নাকে উদ্ধার করেন। তখন তারা রশিদকেও আটক করেন।
লিজা মণি বলেন, “পরে বাসার খাটের নিচ থেকে মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। রশিদ মিয়া আমাদের পূর্বপরিচিত। প্রায়ই টাকা ধার নিত। তার চরিত্রও খারাপ পেয়েছি।”
স্থানীয়দের বরাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার বলেন, “ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। হামলাকারী প্রথমে মনোয়ারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় ছেলে মুন্না মিয়া এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
“একপর্যায়ে তাদেরকে বাঁচাতে আবু চাঁন এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয়রা টের পেয়ে ওই বাসাতেই হামলাকারী রশিদ মিয়াকে আটক করে।”
স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে ছেলে মুন্নার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, রশিদ পুলিশ হেফাজতে আছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
