সাইফুল্লাহ মোঃ খালিদ রাসেল, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিকেরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পোশাক শ্রমিকদের দাবি তাদেরও অন্ততপক্ষে ২১ জন আহত হয়েছেন। তাৎক্ষনিক আহত কারও নাম পরিচয় জানা যায়নি।
এর আগে দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শিবু মার্কেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা এই অবরোধ করেন। অবরোধকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়কে অগ্নিসংযোগ ও বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে জলকামান ও এপিসি (আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার) নিয়ে অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর কাঠেরপুল এলাকার আবীর ফ্যাশনের শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে প্রবেশ না করে মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা পার্শ্ববর্তী মাইক্রো ফাইবার কারখানার শ্রমিকদেরও আন্দোলনে নামতে প্ররোচিত করেন এবং কারখানাটিতে ছুটি ঘোষণা করতে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করেন। এরপর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মেট্রো নিটওয়্যার ও আজাদ নিট কম্পোজিটের শ্রমিকদেরও কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে যোগ দিতে বাধ্য করেন।
পরে দুপুর আড়াইটার দিকে কয়েক হাজার শ্রমিক একত্রিত হয়ে কাঠেরপুল এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে শিবু মার্কেট এলাকার দিকে অগ্রসর হন। এ সময় পুলিশ প্রধান সড়কে প্রবেশের মুখ বন্ধ করে দিলেও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মূল সড়কে প্রবেশ করে অবস্থান নেন। ফলে সড়কটিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই অবরোধের একপর্যায়ে শ্রমিকরা উচ্ছৃঙ্খল হয়ে সড়কে অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুর শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে সড়ক ছেড়ে চলে যান। তারা সরে যাওয়ার পরপরই সড়কে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে ওই এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা পুলিশের ৩ জন এবং শিল্প পুলিশের ৬ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান বলেন, পর বর্তমানে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে চলে গেছেন এবং যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার একই দাবিতে পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেছিলেন। গতকাল দুপুর থেকে প্রায় প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। বিকেল সোয়া চারটার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের আশ্বাসে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
গতকাল শ্রমিকদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছিল। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, সব পোশাক কারখানায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার বাস্তবায়ন, শ্রমিক আমজাদ হোসেন কামালসহ নিহত শ্রমিকদের হত্যার বিচার এবং বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও শ্রম আইন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।
