আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) চীনের চেচিয়াং প্রদেশের উচেন শহরে ‘বিশ্ব ইন্টারনেট সম্মেলন, ২০২৬’-এর উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং মূল বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে লি ছিয়াং বলেন, বিশ্ব ইন্টারনেট সম্মেলন টানা ১৩ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই যুগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে, আর প্রশ্নটি হচ্ছে: কীভাবে ইন্টারনেটকে আরও ভালোভাবে মানবজাতির কল্যাণে কাজে লাগানো যায়। ২০১৫ সালের বিশ্ব ইন্টারনেট সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ‘সাইবারস্পেসে অভিন্ন কল্যাণের সমাজ’ গড়ে তোলার ধারণা তুলে ধরেন, যা ছিল ইন্টারনেটের উন্নয়ন ও পরিচালনা-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে চীনের প্রস্তাব।
এ সময় লি ছিয়াং তাঁর নিজের ৩-দফা ভাবনা তুলে ধরেন:
প্রথমত, ইন্টারনেটের উন্নয়ন বর্তমানে বুদ্ধিমান প্রযুক্তির রূপান্তর ও সামগ্রিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ইন্টারনেটের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বয়ের গতি দ্রুততর হচ্ছে। ইন্টারনেট এখন আর কেবল একটি অবকাঠামো নয়, বরং নতুন জীবনধারা; শুধু প্রযুক্তিগত উপায় নয়, বরং শিল্প রূপান্তরের চালিকাশক্তি; শুধু তথ্যের বাহক নয়, বরং বুদ্ধিমান প্রযুক্তি সৃষ্টির শক্তি। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে এর প্রভাব আরও ব্যাপক ও গভীর হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের উন্নয়নে মানুষকে কেন্দ্র করে মূল্যবোধের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ইন্টারনেট উন্নয়নের চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে হবে মানুষের সার্বিক বিকাশকে এগিয়ে নেওয়া। এ দৃষ্টিকোণ থেকে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। মানুষ ও যন্ত্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানুষের নেতৃত্বের অবস্থান বজায় রাখতে হবে, অ্যালগরিদম ও মডেলের নৈতিকতার বিষয়ে ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী অবস্থান বজায় রাখতে হবে, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও বাস্তব অর্থনীতির সমন্বয়ের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে, ডিজিটাল ও বুদ্ধিমান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে হবে।
তৃতীয়ত, সাইবারস্পেসে অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে হবে। চীন উন্মুক্ত উদ্ভাবনের নীতি অনুসরণ করবে, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও জ্ঞান বিনিময়কে উৎসাহিত করবে এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মিলে উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রাণবন্ত ডিজিটাল উদ্ভাবনী পরিবেশ গড়ে তুলবে।
লি ছিয়াং আরও বলেন, চীন সব দেশের সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যৌক্তিক উদ্বেগকে সবসময় সম্মান করে। নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং ‘ডিজিটাল লৌহ পর্দা’ গড়ে তোলার বিরোধিতা করতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পেনের উপপ্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দেন। বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তারা, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানগণ, বিশ্বের ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, এবং বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদসহ প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন অতিথি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এ সম্মেলন ৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।
সূত্র: শিশির-আলিম-আকাশ,চায়না মিডিয়া গ্রুপ
