আমার কাগজ ডেস্ক
প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কো নির্বাহী বোর্ডের ২২৪তম অধিবেশনে বাংলাদেশ শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বৈশ্বিক সংস্কারের ক্ষেত্রে তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই বক্তব্য তুলে ধরেন।
সচিব তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা বাজেট পর্যায়ক্রমে মোট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার কৌশলগত পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG 4) অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে আব্দুল খালেক জানান, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাধ্যমিক স্তর থেকে ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (GPE) এর আওতায় অনুদান কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজ আমরা ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্ম সংকটে পড়বে।” তিনি প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে উন্নয়ন সহযোগীদের পূর্বপ্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান জানান।
নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সচিব ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশে মেয়েদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে। এছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে নারীদের সামাজিক উন্নয়নের মূল ধারায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির (World Heritage Committee) নবনির্বাচিত সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ তৃণমূল পর্যায়ে ঐতিহ্য সংরক্ষণে “এক গ্রাম, এক পণ্য” (One Village, One Product) কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হবে।
অধিবেশনে সচিব ইসরায়েল কর্তৃক গাজার শিক্ষা ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি গাজার ৮১ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিক নিহত হওয়া এবং ইরানের স্কুলে ভয়াবহ হামলা এবং বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে ইউনেস্কোকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ‘ইউনেস্কো-৮০ রোডম্যাপ’ সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে সচিব সতর্ক করে বলেন, প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে গিয়ে যেন উন্নয়নশীল দেশ, আফ্রিকা এবং উন্নয়নশীল দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর (SIDS) জন্য কারিগরি সহায়তা বা মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
“আমরা ইউনেস্কোকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর এবং জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চাই,” উল্লেখ করে সচিব আবদুল খালেক তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
