ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে।
একই সঙ্গে সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার সকালে হাম সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদে এসব জানিয়েছেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৯০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে দুই শিশু।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে সাত মাস বয়সী আয়ানকে সোমবারই হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শিশুটি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চণ্ডীপর্দী এলাকার বরকতের ছেলে।
অপরদিকে, দুই বছর বয়সী আদিবা ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকার রাফসানের মেয়ে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে আসায় হামের সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। তবে আমরা আশাবাদী, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।”
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
