আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে প্রচলিত নৌপথের নিরাপত্তা ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার ‘ডেইলি মিরর’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এর মতো সংবাদমাধ্যমগুলো চীনা অর্থায়নে নির্মিত বন্দর ও ‘চীন-ইউরোপ রেলওয়ে এক্সপ্রেস’-এর ভূয়সী প্রশংসা করেছে। তারা চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রস্তাবিত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের কৌশলগত মূল্য এবং বাস্তব গুরুত্বকে পুনরায় স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।
শ্রীলঙ্কার ‘ডেইলি মিরর’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাবে জাহাজ চলাচলের গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ায় শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত কৃত্রিম গভীর সমুদ্র বন্দর ‘হাম্বানটোটা আন্তর্জাতিক বন্দর’-এর কার্যক্রমে ব্যাপক জোয়ার এসেছে। এর ফলে বন্দরটিতে নতুন দফার সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়েছে। হাম্বানটোটা বন্দর হলো চীন ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সহযোগিতার অন্যতম প্রধান প্রকল্প। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে এই বন্দরে পণ্য ওঠানামার পরিমাণ ২০.১ লাখ টন ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি।
তুরস্ক প্রস্তাবিত ‘মধ্য করিডোর’ উদ্যোগটি মধ্য এশিয়া ও কাস্পিয়ান সাগর হয়ে আজারবাইজান, জর্জিয়া এবং তুরস্ক পর্যন্ত বিস্তৃত একটি আন্তর্জাতিক পরিবহন পথ। এটি চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত এবং ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনের সময় নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ সাময়িকী এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘মধ্য করিডোর’ কেবল একটি কৌশলগত বিকল্প হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যকার সংযোগের একটি অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালে প্রথম ‘ট্রান্স-কাস্পিয়ান চীন-ইউরোপ রেলওয়ে এক্সপ্রেস’ চীনের সিআন থেকে আজারবাইজানের রাজধানী বাকু পর্যন্ত যাত্রা সম্পন্ন করতে মাত্র ১১ দিন সময় নিয়েছে, যা এই কৌশলগত করিডোরের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাকেই তুলে ধরে।
সূত্র: শুয়েই-তৌহিদ-জিনিয়া,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
