আমার কাগজ প্রতিবেদক
কিছু মহল বাংলাদেশকে ‘বন্ধুহীন’ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তার মতে, দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসাটাও এসব মহল পছন্দ করে না; তারা চাইছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হোক।
মে দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১ মে) বিকালে ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশে বক্তৃতা করছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সেখানে দেশবিরোধী চক্রান্তের অভিযোগ তুললেও কারো নাম মুখে আনেননি তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ যখনই গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে, কিছু মহলের সেটি পছন্দ হয় না।
“সেই সকল মহল, যারা চায় না বাংলাদেশের মানুষ ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য পরিশ্রম শুরু করুক, যারা চায় না বাংলাদেশ পৃথিবীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাক, সেই মহল ষড়যন্ত্র শুরু করে অতীতের মতো।”
ত্রয়োদশ সংসদের আগেও ষড়যন্ত্র হয়েছিল মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “তাদের সেই ষড়যন্ত্র কিন্তু ১২ তারিখের আগে সফল হয় নাই। ১২ ফেব্রুয়ারি যখন তারা দেখল বাংলাদেশ তো আবার জনগণের সিদ্ধান্তে চলা শুরু করেছে, তখন নতুন করে তারা ধীরে ধীরে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র শুরু করল।
“তারা চেষ্টা করছে এখন বিশ্ব দরবারে প্রথমে বাংলাদেশকে বিতর্কিত একটি অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য; তারা চেষ্টা করছে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে একটি বন্ধুহীন রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য। কিন্তু বিশ্ব দরবার দেখছে; বর্তমানের বাংলাদেশের যে সরকার, এই সরকার জনগণের দ্বারা গঠিত সরকার। সেজন্যই বিশ্ব দরবার তাদের কথায় কর্ণপাত করছে না। বরং বিশ্ব দরবার জনগণের যে নির্বাচিত প্রতিনিধি, জনগণের যে নির্বাচিত সরকার, তাদের সঙ্গে কথা বলছে কীভাবে তারা এই দেশে বিনিয়োগ করবে, কীভাবে তারা এই দেশের শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তনের সহায়তা করবে, কীভাবে তারা এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সাহায্য করবে।”
সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “যারা দেশকে বিতর্কিত পর্যায়ে নিতে চায়, যারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়— এরকম যদি কেউ থাকে, তাহলে শ্রমিক ভাইসহ দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে আমার আহ্বান থাকবে, আপনাদের সজাগ হতে হবে, আপনাদেরকে সতর্ক হতে হবে, আপনাদেরকে জেগে উঠতে হবে, আপনাদেরকে তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে, জবাব দিতে হবে, যেভাবে আমরা স্বৈরাচারকে ১৭ বছর ধরে জবাব দিয়েছিলাম।”
রাষ্ট্র মেরামতে ভোটের আগে বিএনপির দেওয়া ৩১ দফার নানা প্রতিশ্রুতিও বক্তব্যে তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “শ্রমিক ভাইয়েরা বাঁচলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে; কৃষকরা বাঁচলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে। সেজন্যই আমরা কৃষক ভাইসহ, শ্রমিক ভাইসহ ছাত্র-জনতাসহ প্রত্যেকের জন্য এই সরকার কী করতে চায়, তার পূর্ণ বিবরণ ৩১ দফায় তুলে ধরেছি।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমান। ভোটে জিতে সরকার গঠনের পর সেই কার্ডের বিতরণও শুরু হয়েছে।
শ্রমিক দলের সমাবেশে ফ্যামিলি কার্ডের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড আমার শ্রমিক ভাইয়ের যে স্ত্রীরা আছেন, তারা পাবেন; কৃষক ভাইদের স্ত্রীরা পাবেন। প্রাইমারি শিক্ষকদের স্ত্রীরা পাবেন। অর্থাৎ এটি ধীরে ধীরে সব পরিবারে পৌঁছবে।
“শ্রমিক ভাইয়েরা যেমন একদিকে পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবেন, একইভাবে রাষ্ট্র তার পরিবারের পাশে দাঁড়াবে, যেন পরিবার নিয়ে তাকে দুশ্চিন্তা করতে না হয়।”
সারাদেশে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করার প্রতিশ্রুতিও ছিল বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে। সরকার গঠনের প্রায় এক মাস পরে গত ১৬ মার্চ ৫৪ জেলার সেই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান।
মে দিবসের সমাবেশে সেই প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, গ্রামের মানুষ প্রয়োজনের সময় পানি পায় না।
“সেজন্যই আপনারা দেখেছেন, শহীদ জিয়ার বিখ্যাত খাল খনন কর্মসূচি আমরা শুরু করেছি।”
