আমার কাগজ প্রতিনিধি
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি, কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
সোমবার বেলা ১২টা থেকে শুরু হওয়া এ সহিংসতায় পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানান ঈশ্বরদী থানার ওসি মমিনুজ্জামান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর মধ্যে ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মোস্তফা নূরে আলম শ্যামলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিরের সঙ্গে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসানের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
দুই দিন আগে ঈদুল ফিতরের দিনের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমন ও যুবদল নেতা শ্যামলসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধর, বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে এদিন সকালে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে বেলা ১২টার দিকে উভয়পক্ষ শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় দুই পক্ষ রেল গেইট এবং পোস্ট অফিস মোড়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়।
এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা দেশি অস্ত্র, লাঠিসোঁটা এবং ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় গুলির ঘটনা ঘটলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে শহরের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ নেতাকর্মী ও সাধারণ পথচারী আহত হয়েছেন। পুরো শহর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ওসি মমিনুজ্জামান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে শহরজুড়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “কিছু নেতাকর্মী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিরোধিতা করেছেন, তারাই আবারও দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে পরিবেশ অশান্ত করে তুলছেন।”
এ বিষয়ে জানতে অপরপক্ষের নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
