আমার কাগজ প্রতিবেদক
দীর্ঘ ১৭ বছর পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর প্রথম তিন দিন তিনি যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, তা বুধবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামীকাল দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন। এরপর তিনি জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে তথা ৩০০ ফিট এলাকায় সংবর্ধনাস্থলে যাবেন। সেখানে উপস্থিত নেতা–কর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। পরে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। সেখান থেকে বিমানবন্দর সড়ক হয়ে কাকলীর মোড় অতিক্রম করে গুলশান–২ নম্বরে নিজ বাসভবনে ফিরবেন। ওই দিন আর কোনো কর্মসূচি নেই।
তিনি জানান, ২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর তারেক রহমান বাসভবন থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
২৭ ডিসেম্বর শনিবার তারেক রহমানের আরও দুটি কর্মসূচি রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। ওই দিন তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। এ জন্য তিনি সশরীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে যাবেন কি না, তা পরে জানানো হবে। একই দিনে তিনি শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাবেন।
শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান রাজধানীর শ্যামলীতে পঙ্গু হাসপাতালে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের দেখতে যাবেন। এরপর আরও একটি অনুষ্ঠানে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে, যার বিস্তারিত সময়মতো জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “দলের পক্ষ থেকে যে নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে, সেটার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে। চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স, দলীয় নেতা–কর্মী এবং দেশের সাধারণ মানুষই আমাদের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার তার বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থাকে আমাদের সহায়তার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। সব গভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশন এবং দলীয় শক্তিকে সমন্বয় করে আমরা আরও শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব বলে আশা করছি।”
