ফেনী প্রতিনিধি
ছাগলনাইয়ার শিলুয়ার কৃতি সন্তান, প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা কাজী ফজলুর রহমান মারা গেছেন। (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসায় শনিবার রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
সাবেক আমলা ও লেখক কাজী ফজলুরের জানাজা সোমবার আসরের পর ধানমন্ডি ৭ নম্বর রোডের বাইতুল আমান মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুরে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শিলুয়ায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ফজলুর রহমান চার মেয়ে ও এক ছেলেসহ রেখে গেছেন। তার স্ত্রী লিলি রহমান ২০১৪ সালে মারা যান।
পাকিস্তান আমলে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া ফজলুর রহমান স্বাধীনতার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, রাখেন। ১৯৯১ সালে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা রাডডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ফজলুর রহমান ব্র্যাক ও পিকিএসএফের প্রতিষ্ঠাকালীন গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। তিনি আহছানিয়া মিশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেন।
ফেনীতে জন্মগ্রহণকারী ফজলুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর সেখানে শিক্ষকতাও করেন কিছুদিন। পরে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স, কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
রাডডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার সংবাদি বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সমাজসেবার ক্ষেত্রে কাজী ফজলুরের অবদান ছিল অনন্য। রাডডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে চেয়ারম্যান হিসেবে তার দূরদর্শী নেতৃত্বে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম একটি সুদৃঢ় ও প্রশংসনীয় ভিত্তি লাভ করে।
আমার কাগজ সম্পাদকের শোক
ছাগলনাইয়ার কৃতি সন্তান প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা কাজী ফজলুর রহমানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দৈনিক আমার কাগজ সম্পাদক ফজলুল হক ভুইয়া রানা। শোক বার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাহফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
