মোহাম্মদ খলিলুর রহমান
প্রতিষ্ঠার ১৫৬ বছর পর প্রথমবারের মতো কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌরসভায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেছেন মোঃ তারিকুল ইসলাম। তাঁর যোগদানের মধ্য দিয়ে পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জানা যায়, এর আগে মোঃ তারিকুল ইসলাম হবিগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার কারণে বাজিতপুর পৌরসভায় তাঁর যোগদানকে উন্নয়ন কর্মকান্ডের ইতিবাচক মোড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বাজিতপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী নওশাদ আলমের ইন্তেকালের পর প্রকৌশল শাখায় শূন্যতা দেখা দেয়। সেই শূন্য পদেই নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন মোঃ আতিকুল ইসলাম।
বাজিতপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নবনিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। পৌরসভা এলাকায় চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা কার্যক্রমে তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
ঢাকা জেলার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জনপদ বাজিতপুরের ইতিহাস সমৃদ্ধ ও গৌরবময়। ১৮২৩ সালে বাজিতপুর থানা স্থাপিত হয় এবং ১৮৬৯ সালের ৮ এপ্রিল বাজিতপুর ও ময়মনসিংহ নামে দুটি মিউনিসিপালিটি গঠিত হয়। তবে বাজিতপুর মিউনিসিপালিটির ভিত্তি স্থাপন হয় ময়মনসিংহের একদিন পূর্বে।
প্রথম দিকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদাধিকার বলে গঙ্গাধর তর্কালঙ্কার বাজিতপুর পৌরসভার প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে সৈয়দ নুরুল হুদা পৌরসভার প্রথম মুসলিম প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৫৯ সালে বাজিতপুরে টাউন কমিটি গঠিত হয়, যা ১৯৭২ সালে বিলুপ্ত করে পূর্ণাঙ্গ পৌরসভায় রূপান্তরিত করা হয়।
প্রতিষ্ঠাকালে বাজিতপুর মিউনিসিপালিটির আয়তন ছিল মাত্র দুই বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা ছিল প্রায় চার হাজার। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৭৮১ সালে রেনেলের মানচিত্রে বাজিতপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যেখানে কিশোরগঞ্জ নামে কোনো স্থানের উল্লেখ ছিল না।
