আমার কাগজ ডেস্ক
শুষ্ক আবহাওয়ায় ক্রমেই বাড়ছে রাজধানীর বাতাসে দূষণের মাত্রা। বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৭ শহরের তালিকায় শীর্ষ ৫ নম্বরে উঠে এসেছে ঢাকা। বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৯টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার সূচক থেকে এ তথ্য জানা যায়।
আইকিউএয়ার বাতাসের মান নিয়ে লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক প্রকাশ করে। যা একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয়ার পাশাপাশি সতর্ক করে। বুধবার সকাল সোয়া ৯টায় আইকিউএয়ার সূচকে সবার ওপরে আছে প্রতিবেশী ভারতের দিল্লি।
শহরটির বাতাসের মানের স্কোর ২৭৩। বাতাসের এই মান নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি তালিকার শীর্ষ ২ নম্বরে অবস্থান করছে পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির বাতাসের মানের স্কোর ২৪৭। এই মানও নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’।
এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষ ৩ নম্বরে আছে মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর কিনশাসা। ১৯২ স্কোর নিয়ে শহরটির বাতাস আজ নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’। অন্যদিকে তালিকার শীর্ষ ৫ নম্বরে ১৬৪ স্কোর নিয়ে আছে রাজধানী ঢাকা।
বাতাসের এই মান নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই অবস্থায় জানালা বন্ধ রাখার পাশাপাশি রাজধানীবাসীদের ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে আইকিউএয়ার।
এদিকে বুধবার সকালে রাজধানীর ৮ এলাকায় দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। এই এলাকাগুলো হলো- মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং, দক্ষিণ পল্লবী, কল্যাণপুর, মাদানী এভিনিউয়ের বে’জ এইজ ওয়াটার, পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি, গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, তেজগাঁওয়ের শান্তা ফোরাম ও গোড়ান।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোর মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর।
অন্যদিকে স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে ধরা হয়। পাশাপাশি ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
