আমার কাগজ প্রতিবেদক
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা বঞ্চিত প্রার্থীদের জন্য আশার খবর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে এখন পর্যন্ত যে ৮১৭ জন প্রার্থী বঞ্চিত রয়েছেন, তাঁদের আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হবে।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি এ কথা জানান।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত এই নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায় ১০ লাখ ৬৯ হাজার চাকরিপ্রত্যাশী অংশ নিয়েছিলেন। এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর মধ্যে যথাযথ স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য শুরু থেকেই নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়।
নিয়োগে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে (ডিপিও) এই নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়। সার্বিক প্রক্রিয়া শেষে মন্ত্রণালয়ের কাছে মোট ৮৫৪ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত আবেদন (ফাইনাল অ্যাপ্লিকেশন) এসেছিল। কিন্তু পুলিশ ভেরিফিকেশন বা পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দেয়।
বিশেষ করে অনেক প্রার্থী তাঁদের স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করায় ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন আসতে দেরি হয়েছে। তবে বর্তমানে পর্যায়ক্রমে সবার ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হচ্ছে এবং পরিবর্তিত ঠিকানার তথ্যও মন্ত্রণালয়ের হাতে আসছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে আটকে থাকা এই ৮১৭ জনের নিয়োগপত্র প্রদানের বিষয়ে সরকার দৃঢ় আশাবাদী। তবে এরপরও যদি কারও নিয়োগ বাকি থাকে, তাঁদের বিষয়েও সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।
শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “যাঁদের নিয়োগ ১ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন হবে না, তাঁদের নিয়ে আমরা কাজ করব। তাঁদের আবেদন ও নথিপত্রগুলো আমরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং সেগুলো রিভিউ বা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।” নিয়োগবঞ্চিত কোনো যোগ্য প্রার্থী যেন বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে বলে তিনি জানান।
