আমার কাগজ ডেস্ক
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে কোরবানির ঈদ উদযাপন করছেন সাতক্ষীরার অন্তত ২৩টি গ্রামের মুসলমানরা। ঈদের নামাজ, কোরবানি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠেছেন এসব গ্রামের পরিবেশ।
বুধবার সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে সদর উপজেলার কুশখালী বাউখোলা জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত। ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী।
তিনি বলেন, ঈদের জামাতে কুশখালী বাউখোলা ও আশপাশের জনপদের ইসলামকাটি, গোয়ালচাতর, ভাদড়া, ঘোনা, ভাড়খালী, মিরগিডাঙ্গা, মাহমুদপুরসহ আশপাশের অন্তত ২৩টি গ্রামের মানুষ ছাড়াও অনেকে দূরদুরান্ত থেকে এসেও অংশ নিয়েছেন।
বুধবার ফজরের পর থেকেই নতুন পোশাক পরা শিশুদের কোলাহল, কোরবানির পশু নিয়ে ব্যস্ততা আর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে পুরো এলাকা প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে।
পরে নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন বাসিন্দারা এবং কোরবানির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
কলারোয়া উপজেলার গোয়ালচাতর গ্রামের বাসিন্দা আলি হোসেন বলেন, ভোর ৬টার মধ্যেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে মসজিদে রওনা দিই। নির্ধারিত সময়েই জামাতে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে। নামাজ শেষে আমরা কোরবানির প্রস্তুতি নিয়েছি।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলা থেকে আসা জিএম হাসান মাহবুব বলেন, আমরা আগে থেকেই চাঁদের হিসাব সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলাম। তাই সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একই দিনে ঈদ উদযাপনকে সঠিক মনে করি। সেই বিশ্বাস থেকেই দূরদূরান্ত থেকে এখানে এসেছি।
ঈদের খুতবায় মাওলানা মাহবুবুর রহমান বলেন, ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের শিক্ষা নিয়েই মুসলমানরা ঈদুল আজহা পালন করেন। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি মুসলিম উম্মাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আমরা একদিন আগে থেকেই রোজা শুরু করেছি। সেই ধারাবাহিকতায় কোরবানির ঈদও উদযাপন করছি।
দেশের অন্য এলাকার মানুষের সঙ্গে মিল না রেখে ভিন্ন দিনে ঈদ উদযাপনের এই রীতি স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিলেও অংশগ্রহণকারীদের দাবি, তারা ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই এ আয়োজন করে থাকেন।
বাউখোলা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মহব্বত আলী বলেন, সারাবিশ্বে যদি একই দিনে হিজরি নববর্ষ গণনা করা হয়, তাহলে একই দিনে রোজা ও ঈদ উদযাপন করাও যৌক্তিক।
অপরদিকে মাওলানা আবু সালেক বলেন, প্রায় দেড় যুগ ধরে তারা সৌদি আরবের সময় অনুসরণ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।
একই সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
