আমার কাগজ প্রতিবেদক
রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত সময় টেলিভিশনের কার্যালয়ে রোববার সন্ধ্যায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও, প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া সময় মিডিয়া লিমিটেডের সিইও জুবায়ের বাবুকে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর তিনি সন্ধ্যায় একদল ভাড়াটে লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ওই ব্যক্তিরা প্রশাসনিক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যালয়ের বিভিন্ন ফ্লোর, বিশেষ করে নিউজরুম এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
কর্মীদের ভাষ্য, ভাড়াটে লোকজনের ভয়ভীতি ও চাপের মুখেও সংবাদ সম্প্রচারসহ নিয়মিত কার্যক্রম চালু রাখা হয়। তাদের বাধার মুখে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিভিন্ন স্থান থেকে আরও লোকজন আনা হলে কার্যালয়জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হলে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় পরিবেশ।
প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মীর অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই সময় টেলিভিশনের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন চলছিল। তাদের দাবি, বরখাস্ত হওয়ার পর থেকেই জুবায়ের বাবু একটি চক্রের সহায়তায় সময় টেলিভিশনের কার্যক্রম অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। এ লক্ষ্যে কয়েকদিন ধরেই কার্যালয়ের সামনে বহিরাগত লোকজন এনে চাপ সৃষ্টির মহড়া দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। কর্মীদের আরও দাবি, কার্যালয়ের ভেতরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলে। তাদের অভিযোগ, জুবায়ের বাবুর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়।
বিশেষ করে সিআরআই-সংশ্লিষ্ট প্রসঙ্গ টেনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এ ধরনের পোস্ট যেসব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সময় টিভি ও প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জোবায়েরকে নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জুবায়ের বাবুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি।
