আমার কাগজ প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কেবল ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বাতিল হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার চ্যানেল ২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার করা মানেই আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে যায় না। এ বিষয়ে সংবিধান ও আইনে নির্ধারিত একটি প্রক্রিয়া রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, যদি জাতীয় সংসদের স্পিকার বা সংসদ বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠায়, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শুনবে। এরপর সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে বা সংসদে নিজ দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে দলীয়ভাবে বহিষ্কারের ফলে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে—এমন কোনো স্পষ্ট বিধান সংবিধানে নেই।
এ ছাড়া সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদ সদস্য বিরোধ নির্ধারণ আইন অনুযায়ী, কোনো সদস্যের যোগ্যতা বা আসন শূন্য হওয়া নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। বিরোধ উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে বিষয়টি কমিশনে পাঠানোর বিধান রয়েছে। এরপর নির্বাচন কমিশন দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা প্রয়োগ করে শুনানি গ্রহণ করবে এবং সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত স্পিকারকে জানাবে। আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে।
দলীয় তদন্তে ঘটনাটিকে ‘নৈতিক স্খলন’ হিসেবে উল্লেখ করে গত ২১ জুলাই কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২২ জুলাই দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করে এবং নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবহিত করার কথাও জানায়।
