আমার কাগজ প্রতিবেদক
শিক্ষা খাতের উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হলেও আইনি জটিলতার কারণে অনেক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, বর্তমানে শিক্ষা খাতে প্রায় ৮৩ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই আইনি জটিলতার কারণেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
রোববার (১৪ জুন) সকালে রাজধানীর বনানীতে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার রোধে স্কুল ইউনিফর্ম ও মিড-ডে মিলসহ নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্যানিটেশন সমস্যার সমাধানেও বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে।’
শিক্ষা বাজেটের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অতীতের সব সময়ের চেয়ে বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছে, যা মোট বাজেটের ২ শতাংশ। তবে আমাদের ‘লার্নিং আউটকাম’ বা শিক্ষার ফল এখনও সন্তোষজনক নয়। আমরা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে কাজ করছি। দেশের কোথাও বাল্যবিয়ে বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ধারাকে এক রেখায় আনতে কাজ চলছে। প্রাথমিক শিক্ষার খরচ কমিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। দেশের সব স্কুলে প্রি-প্রাইমারি ক্লাস চালু করা হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সরকারের ১৮০ দিনের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী বছরের মধ্যে সরকারিভাবে মিড-ডে মিল, প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও জুতা দেয়া হবে। মানসম্মত শিক্ষা দেয়া হচ্ছে না–এমন দাবি তুলে অভিভাবকরা কিন্ডারগার্টেনের দিকে ঝুঁকছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এখন থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যয়ের বিপরীতে আউটকাম বা ফলাফল বিবেচনা করা হবে।’
শিক্ষক বদলি প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বিগত দিনে শিক্ষকদের বদলি নিয়ে একটি বিশাল সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। এখন থেকে প্রাথমিক লেভেলের শিক্ষকদের বদলি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ন্যস্ত করা হবে। আগামী দুই বছর পর প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষক ক্লাসরুমে যেতে পারবেন না।’
তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালের কারিকুলামে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্কুল ক্যালেন্ডার তৈরি করে দেয়া হবে। সামগ্রিকভাবে কারিকুলাম, শিক্ষক, অবকাঠামো ও প্রশাসন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে সরকার কাজ করছে এবং এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে প্রথমবারের মতো সঠিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
