আমার কাগজ ডেস্ক
গত জুনে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৯৩০ জনে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের আশঙ্কা, এখনও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার দেশটির আইনপ্রণেতা হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া ২১ হাজার ১২০ জন বর্তমানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। দুর্যোগের পর থেকেই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরুতে ধীরগতির ছিল। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রাথমিক অভিযান শেষ হলেও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এখনও চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ভেনেজুয়েলার দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্গঠন কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলেছে। সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চের সহপরিচালক ও জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ মার্ক ওয়েইসব্রটের দাবি, আন্তর্জাতিকভাবে ভেনেজুয়েলার প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবরুদ্ধ থাকায় দেশটি প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যবহার করতে পারছে না।
এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ জন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা হোয়াইট হাউসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ভেনেজুয়েলার পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য দেশটির ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা জরুরি ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠনে প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।
