আমার কাগজ ডেস্ক
ইতালির ভেনিসের মোস্ত্রে এলাকায় হামলা ও হেনস্থার ঘটনায় আইনি সহায়তাসহ যে কোনো বিষয়ে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিলানে বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে পাশে পাচ্ছেন আজমেরী হক বাঁধন।
এছাড়া বাঁধন হামলার ঘটনায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ জমা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে মেস্ত্রে থানায় বাঁধন উপস্থিত হয়ে দ্বোভাষীর মাধ্যমে তার উপর হামলার বিবরণ দিয়ে মোট ৮ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। হামলাকারীরা সবাই আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগে বর্ণনা করেছেন তিনি।
রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ চলচ্চিত্র নিয়ে ইতালির ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অন্য কলাকুশলীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বাঁধন। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাতে মেস্ত্রে এলাকায় বাঁধন হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। ফেইসবুকে তিনি অভিযোগ করেন, নিজেদের আওয়ামী লীগ কর্মী পরিচয় দিয়ে কয়েকজন তার দিকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছোড়ে। তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার হাত থেকে মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার সময় বাঁধনের সঙ্গে তার ভাই, ভাবি ও তাদের চার বছর বয়সি সন্তান ছিলেন।
বাঁধনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে এ হামলা ও হেনস্তা করা হয়েছে।
ঘটনার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল মিলান। ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাঁধনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে তথ্য দিয়েছেন মিলান কনস্যুলেটের শ্রম কনসাল মেহরুবা ইসলাম।
তিনি বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমরা ভেনিসে এসে আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত শুনেছি। স্থানীয় প্রশাসনকে তদন্ত অনুযায়ী আসামিদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।”
বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার সংসদেও কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সকালেই পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বাঁধনের কথা হয়েছে তথ্য দেন তিনি। এছাড়া বাঁধনের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ইতালির পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলেছেন প্রতিমন্ত্রী। মিলানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলেও তিনি জানান।
হুমায়ুন কবির বলেন, “বাঁধনকে সর্বোচ্চ কনস্যুলার সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বাঁধন স্থানীয় পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন। বাংলাদেশের দূতাবাসও ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি সবচেয়ে কঠোরভাবে তুলবে।”
এদিকে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও ঘটনার তদন্তে ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়েছে। ইতালির পত্রিকা ‘লা স্টাম্পা’-এর খবরে বলা হয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ইতালি পুলিশের বিশেষ শাখা ডিগোস। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজও পরীক্ষা করছেন।
এছাড়া বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাঙালি কমিউনিটির একাধিক নেতা বলেন, মতপার্থক্য বা রাজনৈতিক বিরোধের কারণে কোনো শিল্পী বা ব্যক্তির ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
