আমার কাগজ ডেস্ক
দেশের এভিয়েশন বা বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরসহ যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে বোয়িং প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন নতুন রুট চালু ও বিমান খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করেই এই উড়োজাহাজগুলো কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন জানান, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের দ্বিতীয় দিনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এদিন প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন।
বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা, কৃষকদের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসন এবং ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বাংলাদেশ সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
জ্বালানি, বাণিজ্য ও প্রবাসীদের ওপর সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাবের কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত বলেও জানানো হয়।
জাতিসংঘ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানরত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন ও ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, কূটনীতিতে আলোচনার পথ কখনোই বন্ধ করা যায় না।
অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যান ব্যবহার এবং জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের জাতিসংঘ সফরের অংশ হিসেবে আজ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি বাংলায় ভাষণ দেবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
