ফেনী প্রতিনিধি
কোনো ধরনের পূর্বাবাস বা সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ফেনীর সিভিল সার্জন এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিমকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্তির আদেশ দেওয়া হয়।
একই সাথে জেলার শীর্ষ দুটি সংবেদনশীল প্রশাসনিক পদ এভাবে শূন্য হয়ে পড়ায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্পষ্ট কোনো কারণ না থাকায় অনেকেই এই আকস্মিক আদেশকে ‘শাস্তিমূলক বদলি’ হিসেবে অবিহিত করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম একই সাথে জেলার সিভিল সার্জন ও প্রধান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সুনামের সাথে সামলে আসছিলেন। চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় তার ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত। তবে সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নোয়াখালী সফরের পরপরই কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাকে ওএসডি করায় জনমনে নানামুখী রহস্য ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সেবাব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নাগরিক সমাজের
জেলার প্রধান দুটি স্বাস্থ্য পদ একসাথে খালি করার এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। তাদের মতে, স্বাস্থ্য খাতের অভিভাবকহীনতা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবায় মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, স্বাস্থ্য খাতের ভেতরে থাকা কোনো বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলের ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই এই রহস্যজনক বদলির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। কার ইশারায় এবং কী উদ্দেশ্যে একজন কর্মঠ কর্মকর্তাকে সরানো হলো, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে।
ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম (সদ্য ওএসডি হওয়া সিভিল সার্জন) ফেনীর সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণ এই আকস্মিক আদেশের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে জেলার স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে যোগ্য কর্মকর্তা পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
