ফেনী প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল আযহা যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমজমাট হয়ে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। বিভিন্ন হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দুপুর থেকে রাত অবদি হাটগুলোয় চলছে কেনাবেচা। চাহিদানুযায়ী এবারে গরু ও ছাগলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম তুলনামূলক বেশি বলে দাবি করছেন ক্রেতারা।
তবে এখন পর্যন্ত নিজেদের মতো করে ভালো দামে বিক্রি করায় গত বছরের চেয়ে কিছুটা ভালো লাভ হচ্ছে জানিয়েছেন বিক্রেতারাও। শেষ পর্যন্ত ভালো লাভে ঘরে ফেরার আশা তাদের।
সোমবার শহরের সিও অফিস, শহরতলীর মধুয়াই বাজার ও দাগনভূঞার মাতুভূঞা বাজারে ব্যপক পশুর সমাগম হলেও দুপুর থেকে বৃষ্টি হওয়ায় তুলনামূলক কম হচ্ছে বেচা-কেনা।
তবুও ঘুরে দেখা গেছে, তিনটি হাটে সারিসারি গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিক্রেতারা। বিক্রেতাদের সাথে দরকষাকষি করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা কোনো গরু যেমন সাড়ে ৪ লাখ টাকা চাচ্ছেন। আবার সাধ্যমত দামে কিনতে চাচ্ছেন ক্রেতারা। এবারের ঈদের জন্য কুমিল্লার গুনবতী দশবাহারের কবির আহম্মদ ৪০টি গরু লালন-পালন করেছেন। ইতোমধ্যে নয়টি তিনি বিক্রি করে ফেলছেন।
এর আগে, রোববার সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী বাজারে নিয়ে আসেন নয়টি গরু। কোনোটির দাম হাঁকছেন আড়াই লাখ টাকা।
কবির আহম্মদ জানান, ‘এখানে ১১টি গরু নিয়ে এসেছি। এখনো একটাও বিক্রি করতে পারিনি। মোটামুটি শুরু হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ভালো লাভ হচ্ছে। বাকিগুলাও ভালো দামে বিক্রি করার আশাবাদী।’
রংপুর থেকে ৪০ হাজার টাকায় ট্রাক ভাড়া খরচ করে নয়টি গরু নিয়ে আসেন মো: মনির। এর মধ্যে চারটি গরু বিক্রি করে ফেলছেন।
গত শনিবার পদুয়া বাজারে ও রোববার মোহাম্মদ আলী বাজারে আনেন। মোহাম্মদ আলী বাজারে নিয়ে আসেন পাঁচটি।
মো: মনির বলেন, ‘যেগুলো বিক্রি করেছি এগুলোয় গতবারের চেয়ে ভালো লাভ হয়েছে। বাকিগুলোও ভালো দামে বিক্রি করার আশাবাদী।’
ফেনী শহরের সালাউদ্দিন মোড় থেকে মোহাম্মদ আলী বাজারে গরু কিনতে যান মোহাম্মদ সাঈদুল হক। বিক্রেতারা দাম বেশি চাইছেন বলে দাবি তার।
তিনি বলেন, ‘অনেক বেশি দাম চাচ্ছে। সাধ্যের মধ্যে পেলে নিয়ে নিবো। এখন যে দাম চাচ্ছে এক-দুইদিন পর হয়তো কমে যাবে। তবে দাম বেশি চাচ্ছে এখানে।’
আরেক ক্রেতা বলেন, ‘দাম অনেক বেশি। ঘুরে দেখতেছি। বিক্রেতারা আকাশচুম্বী দাম চাচ্ছে।’
এদিকে শহরের সুইমিংপুলে খেলার মাঠে এবং বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়কে পশুর হাট মেলায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে ক্ষোভ অসন্তোষ রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার কোরবানির জন্য জেলার ছয়টি উপজেলায় গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে ৮২ হাজার ৫২৫টি। এর মধ্যে ৯০ হাজার ৪৫২টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় সাত হাজার ৯২৭টি বেশি রয়েছে। এর মধ্যে জেলায় গরুর রয়েছে সাত হাজার ৫৬৯টি, ছাগল রয়েছে ১৩ হাজার ২২৯টি, মহিষ রয়েছে এক হাজার ৭৩৫টি ও ভেড়া রয়েছে তিন হাজার ৯১৯টি।
জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন জানান, জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে ৩৭টি মেডিক্যাল টিম খামার ও পশুর হাটের তদারকিতে রয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি ও ক্রাইম) মো: সাইফুল ইসলাম জানান, পশুরহাটের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। জাল টাকা শনাক্তে ব্যাংকের সহযোগীতায় বিভিন্ন পশুরহাটে মেশিন বসানো হয়েছে।
৪ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল এমএম জিল্লুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে গরু প্রবেশ ঠেকাতে ও কোরবানির পশুর চামড়া পাচার রোধকল্পে সীমান্ত এলাকায় পাহারা জোরদার করা হয়েছে। এবার অবৈধভাবে এখন পর্যন্ত সীমান্ত পথে গরু প্রবেশ করতে পারেনি।
