গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের পোড়াবাড়ী এলাকায় অবস্থিত উপমহাদেশের অন্যতম পরিচিত আধ্যাত্মিক সাধক হযরত শাহ সুফি পাগল ফসিহ উদ্দিন (র.)-এর মাজার ভাঙচুরের প্রায় দুই বছর অতিক্রম হলেও এখন পর্যন্ত সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ভক্ত, স্থানীয় বাসিন্দা এবং মাজার পরিচালনা কমিটির নেতারা।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক এ স্থাপনাটি আজও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে আছে।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে ৪৪তম ওফাত দিবস উপলক্ষে মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা অবিলম্বে মাজারটির সংস্কার, সংরক্ষণ এবং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সৃষ্ট অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী মাজারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে মাজারের বিভিন্ন স্থাপনা, অবকাঠামো এবং ধর্মীয় নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ভক্তদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসংখ্য মানুষ এই মাজারে জিয়ারত ও ইবাদতের উদ্দেশ্যে আসেন। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, অস্বাভাবিক পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার শত বছরের ধর্মীয় ঐতিহ্যও হুমকির মুখে পড়েছে।
মাজার সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক রায়হান আল মাহমুদ রানা বলেন, ৫ আগস্টের ডামাডোলে একটি বিশেষ চক্র উগ্রবাদীদের সঙ্গে নিয়ে মাজারে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছিল। এরপর থেকে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। আমরা চাই, দ্রুত মাজারটি সংস্কার করে এর আধ্যাত্মিক পরিবেশ, ঐতিহ্য ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, হযরত শাহ সুফি পাগল ফসিহ উদ্দিন (র.)-এর মাজার শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে আধ্যাত্মিক চর্চা, সম্প্রীতি এবং স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তাই মাজারটির সংরক্ষণ কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত গুরুত্ব বিবেচনায়ও জরুরি।
তারা মাজারটি দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ও ভাঙচুর প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার পুনর্নির্মাণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেন।
ওফাত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, আলোচনা, মিলাদ ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি এবং মাজারের দ্রুত সংস্কার ও স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য মোনাজাত করা হয়। এতে মাজার সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আলেম-ওলামা এবং বিপুলসংখ্যক ভক্ত অংশগ্রহণ করেন।
