গ্রেপ্তার সালা উদ্দিন ও সৈয়দ শাহীন মাহমুদ
বিশেষ প্রতিনিধি
পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে ‘আমার দেশ’ নামের একটি ফেসবুক পেজের দুই পরিচালনাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন ‘কথিত’ সাংবাদিকও রয়েছেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সূত্রে শনিবার এ তথ্য জানা যায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) শাহপরান থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে এ ঘটনায় বাহিনীতে কর্মরত অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার কয়েকজন কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি পেইজটির সঙ্গে জড়িত বিদেশভিত্তিক একটি চাঁদাবাজ চক্রের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় পেজটির একজন অ্যাডমিন, যিনি পেশায় সাংবাদিক, তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে অপপ্রচার চক্রের কার্যক্রম, দেশ-বিদেশে থাকা সদস্যদের যোগাযোগ এবং পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে এসএমপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধীক কর্মকর্তা জানান, ফেইসবুক পেইজ থেকে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে চাঁদাবাজীর অভিযোগে ঢাকা থেকে সালাউদ্দিন নামের একজন ‘কথিত’ সাংবাদিক এবং আরেকজন সৈয়দ শাহীন মাহমুদ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রে জড়িত অন্যান্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা হচ্ছে।
মামলার বাদী মোহিদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এইসব পেইজ থেকে ভুয়া কন্টেন্ট তৈরী করে ছড়ানো হতো। বেশ কয়েক দফা তারা আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় তারা আমার নামে কয়েকটি পেইজ থেকে ভুয়া তথ্য ছড়াতে থাকে। পরবর্তীতে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরণাপন্ন হয়।
এর আগে বাংলাদেশ পুলিশের সৎ, দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টাল ও ভুয়া ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠে।
পুলিশের দাবি, এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের নাম, ছবি ও পরিচয় অপব্যবহার করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল। প্রাথমিক তদন্তে এসব প্ল্যাটফর্মকে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল এবং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ অপপ্রচারের নেপথ্যে একটি আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য পুলিশের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং রাষ্ট্রে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। এ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত সাইবার টিম তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, তদন্তে দেশীয় ও বিদেশি কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে দেশের ভেতরে ১০ থেকে ১৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের কর্মকাণ্ড নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, অপপ্রচারে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিপফেক ছবি, ভিডিও ও অডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপপ্রচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
