আমার কাগজ প্রতিবেদক
বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোর ক্রোড়পত্রের বকেয়া বিল পরিশোধে জটিলতা যেন কাটছে না। বিজ্ঞাপনের বিল না পাওয়ায় তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। যার ফলে অনেক মূলধারার পত্রিকাও নিয়মিত প্রকাশনা বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, কারণ সরকার ও বেসরকারি খাত থেকে বকেয়া বিল বাবদ কোটি কোটি টাকা আটকে আছে। এই বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় সাংবাদিক ও কর্মীদের বেতন দিতে সমস্যা হচ্ছে, সংবাদপত্রের মেরুদন্ড ভেঙে পড়ছে এবং কিছু পত্রিকা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলেও সেটি বার বার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সর্বশেষ এটি চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) উদাসীনতার খপ্পড়ে পড়েছে।
প্রসঙ্গত, ক্রোড়পত্র প্রকাশ বাবদ বিল পরিশোধের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় গত বছরের ২৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আব্দুল্লাহ সিদ্দিক স্বাক্ষরিত চিঠিটি অর্থ বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো হয়। প্রেরিত এ চিঠির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়, “ক্রোড়পত্র প্রকাশ বাবদ ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থ বছরে বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য ৩৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রসঙ্গে”।
চিঠিতে বলা হয়, “প্রায় প্রতিটি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক দিবসে গড়ে দুইশত থেকে আড়াইশত পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হতো। তৎপ্রেক্ষিতে ধারাবাহিকভাবে ২০১৯-২০২০, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থ বছরে মন্ত্রণালয়ের জিও মোতাবেক ক্রোড়পত্র বিতরণ করা হয় এবং এ খাতে ৭৫ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা বকেয়া সৃষ্টি হয়।”
এতে আরো বলা হয়, “২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরীপত্রের মাধ্যমে আংশিক বকেয়া বিল পরিশোধ করা হয়। পরিশোধের পর অবশিষ্ট বকেয়া অর্থের পরিমাণ রয়েছে ৩৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। বকেয়া অর্থের হিসাব বিবরণী এসঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। উক্ত বকেয়া অর্থ পরিশোধের লক্ষ্যে চলতি অর্থ বছরে বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন, যা পরিশোধ করা হলে এ অধিদপ্তরের আর কোন বকেয়া অর্থ অবশিষ্ট থাকবে না। উল্লেখ্য, ২০২১-২২ অর্থ বছরের পর হতে এ অধিদপ্তরের প্রচার ও বিজ্ঞাপন খাতে আর কোন বকেয়া সৃষ্টি হয়নি।”
প্রায় আট মাস আমলাতান্ত্রিক গ্যাঁড়াকলে আটকে থাকার পর গত ২২ জুলাই এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতিসূচক পত্র মিলে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ-১, বাজেট শাখা-৮ এর উপসচিব আবদুল মন্নান স্বাক্ষরে চিঠিটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সচিব বরাবর প্রেরণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২ আগস্ট তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বাজেট-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আব্দুল্লাহ সিদ্দিক স্বাক্ষরে কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে ডিএফপি অনুকূলে বিজ্ঞাপন খাতে অতিরিক্ত ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের সরকারি আদেশ (জি.ও) জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের চিফ একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার বরাবর প্রেরিত চিঠির অনুলিপি ডিএফপি মহাপরিচালককে দেয়া হয়েছে। তবে রহস্যজনক কারণে গত এক সপ্তাহেও আদেশ বাস্তবায়নে কার্যকরী কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ নিয়ে পত্রিকা সংশ্লিষ্টদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
