আমার কাগজ ডেস্ক
নেপালের মধ্যাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৫৭ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ৫৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই বিদেশি পর্যটক। বুধবার বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোর্খা, তানাহুঁ ও নওয়ালপুর জেলায় এই ভয়াবহ দুর্যোগ আঘাত হানে।
নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নুয়াকোটে ১১ জন, ধাদিংয়ে ১৮ জন, চিতওয়ানে ৩৩ জন, গোর্খায় ১৯ জন, তানাহুঁতে সাতজন এবং নওয়ালপুরে ১১ জন রয়েছেন।
বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিখোঁজ
নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ১০০ জনের বেশি ভারতীয়, ৫৪ জন যুক্তরাষ্ট্রের, ৩৩ জন যুক্তরাজ্যের এবং ১০০ জনের বেশি নেপালি নাগরিক রয়েছেন। তাছাড়া, আরও নিখোঁজ হয়েছেন কয়েক ডজন পুলিশ কর্মকর্তা, সেনাসদস্য এবং বিদ্যুৎকর্মীরাও।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানান, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তা এবং সেনাবাহিনীর ৪৪ জন সদস্য রয়েছেন।
ট্যুর অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের বড় একটি অংশ ভারত-নেপাল সীমান্ত হয়ে মানস সরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন।
মুহূর্তেই ভেসে গেছে ঘরবাড়ি
স্থানীয় বাসিন্দা রাজু ভাদেল জানান, সকালে তাঁর ভগ্নিপতি ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে জানান, তাঁদের পুরো বাড়ি বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। পরিবারের তিন সদস্যকে উদ্ধার করা গেলেও তাঁর ভাই এখনো নিখোঁজ।
পুলিশ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, নদীর প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি ভেসে যাচ্ছে, আর কাদামাটির নিচে অনেক স্থাপনার শুধু ছাদের অংশ দৃশ্যমান রয়েছে।
বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় বড় ধাক্কা
দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিব্বতেও প্রাণহানি
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, একই দুর্যোগে তিব্বতের গিরং এলাকায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল সীমান্তের তিব্বত বাণিজ্যকেন্দ্রেও ভূমিধসে ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।ल्हेन्दे खोला बाढी : नौजनाको सकुशल उद्धार | राम्रो अनलाइन
কেন হঠাৎ এমন বন্যা?
এটি ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর নেপালের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মাত্র তিন মিনিট পরই আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। যদিও এই দুই ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিত নয়।
দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কা
কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড) সতর্ক করে বলেছে, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে এখনো নদীর প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে রয়েছে। ফলে যেকোনো সময় দ্বিতীয় দফা আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই দুর্যোগে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে পুরো জাতি স্তম্ভিত। তিনি জানান, উদ্ধার অভিযানে সরকারের সব ধরনের সম্পদ ও সক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগানো হয়েছে।
