শ্যামসুন্দর সিকদার
ইচ্ছে করে ওই নীল আকাশের ক্যানভাসে ত্রিকালের ছবি আঁকি
তবে ইচ্ছের আকাশে বিগত কালের যত ছবি রাখি –
মনের মজুদ যত – কেন জানি হায়
কোনো অদৃশ্য আঁধারে দূরে সরে যায়!
এক জোনাকীর সাথে ছিল নিবিড় সখ্যতা রাশি রাশি
আধো অন্ধকার! আধো আলোমাখা ভালোবাসাবাসি! !
শরীরের স্পর্শ-অনুভূতি হতে বুঝে নিতাম – তখনো বেঁচে আছি
আকাক্সক্ষার উদ্গীরণের ভেতর যেমন থাকে চাঁদের নিমগ্ন হাসি!
এমন ছবিতে চোখ আমার বিদীর্ণ হয় ক্ষণে ক্ষণে
অথচ দেখে না অতিথি, দর্শক, মহাজ্ঞানী-মহাজনে!
আমার ইচ্ছের মাঝে থাকে সন্দেহের তীব্রতা, হৃদ-কম্পন!
কবি পাবলো নেরুদার কবিতা যেমন ছিল হৃদয়ের চিত্রাঙ্কন,
কিংবা শিল্পী সুলতান যেমন দেখেন তুলিতে সুঠাম নৃত্য
আমি তবে খুশি নই, আমার হাতের মুক্ত তুলিতে; অতৃপ্ত!
আমি নিরন্তর চলেছি মুক্ত ক্যানভাসে শত শত ছবি এঁকে
মেঘের অন্তরে করি বসবাস – মানুষের নির্মমতা দেখে
তারাদের অলৌকিক স্নেহ নিয়ে কতজন করে উপহাস
মৃত নদীর প্রবাহে ছিল স্বপ্নের অঙ্কিত এক সুবাতাস,
সেই প্রবাহ-দেশের কেউ যেন দেখেনা দারিদ্রে দূরাগত তত্ত¡!
তাল দীঘির নবান্ন উৎসবে মেতেছে কত নতুন হলুদ নৃত্য
ফড়িংয়ের অবতার উড়াল বার্তায় পেয়েছি যখন প্রেয়সীর চিঠি
এঁকেছি আকাশে সুর বিতানের তারাদের হাসি মিটিমিটি
ময়ুরের পেখম ও বালিকার অনাগত ভবিষ্যত মায়ার বন্ধনে
এইসব যেমন ছিল – শেষ কালের অক্লান্ত গন্তব্য অঙ্কনে!
বাল্যকাল-কৈশোর-যৌবন শেষে বসন্তের প্রান্ত বৃক্ষের পাতায়
এঁকেছি শতেক বৃত্ত, নতুন গ্রাফিতি, দুর্ভাগ্যের হতাশায়! !
একটা ঝড়ের পর এঁকেছি কতেক ছবি, দেখে অনিমেষে
যেন অনিচ্ছার মাঝে পথশিশুর মিছিলে উত্থানের গল্প শেষে,
এখন চলেছি এঁকে ভবিষ্যত আকাশের দূরে মেঘপুঞ্জ
অশ্রুর বর্ষণ দেখি, জন্মের ক্রন্দনে – কে ছিল বিকল-খঞ্জ?
রংধনুর নেপথ্যে পা দু’খানি আমার স্বনির্ভর হয়ে চলে
শেষ গন্তব্যের দ্বারে – ছবির মতন স্পষ্ট চোখ ধরি মেলে
সেখানে সমুখে একখানি আয়না দুয়ারে দেখতে পাই
ঠিক যেন ত্রিকালের সম্মিলিত তুলির প্রবেশদ্বারে যাই
যেখানে মিলে না যোগ অংকের সহজ সূত্র-ফল
কিংবা শোকে বিহ্ববল কোনো বিয়োগের অশ্রুজল
সমতলের সমান পৃষ্ঠায় লিখে না কেউ ছন্দ পঙতিমালা!
যেই ছবিতে দেখেছি নিরন্তর সচেতন কৃত অবহেলা
অথচ এখানে শাদা কাশফুলের বাতাসে ঢেউ ভেসে ওঠে
ছবির মতন এক মায়াবী মায়ের বিদগ্ধ কম্পিত ঠোঁটে
আমার চোখের সামনে – দৃষ্টির নতুন ক্যানভাসে
কালের শেষ ছবিতে স্পষ্ট কান্না শুনি অনায়াসে!
নদীর পাড়ে কীর্ত্তন
আর হরণের ধ্বনি সারাক্ষণ
আর সেই অবারিত ধ্বনির প্রতিধ্বনিতে মিলে যায় প্রাণ
সাগরের মোহনায় মিলেছে অতীত কিংবা বর্তমান!
আমার ইচ্ছের ক্যানভাসে যা প্রতিফলিত অনাগত যে হৃদ-কম্পন
সেই ছবি সকলেই যেন দেখে আজ অন্তরের নিষ্ঠ ছবির মতন!!
-২৭/৫/২০২৬, ঢাকা।
