আমার কাগজ প্রতিবেদক
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে ঢাকায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাত থেকে তা আরও বেড়েছে। ভোরে কয়েক ঘণ্টার বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অলিগলিতে জমা পানি সরছে না। এতে বিপাকে পড়েছেন নগরবাসী। ভোগান্তি পেরিয়ে কর্মস্থলে ছুটতে হচ্ছে চাকরিজীবীদের। তবে সবচে বেশি ভোগান্তি পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৩ ঘণ্টায় ঢাকায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, মালিবাগ, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, পুরান ঢাকা, শান্তিনগর, গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন, কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এদিকে আবার খোড়াখুড়ির কারণে রাস্তার একপাশ কাটা থাকায় কোথাও কোথাও চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তবে বৃষ্টিতে সবচে’ বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্তে¡ও খোলা ছিল অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এমনকি কোনো কোনো বিদ্যালয়ে পরীক্ষাসূচিও বহাল ছিল। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগও বেড়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ও পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সকালের দিকে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিতের নোটিশ দেয়। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ছিল নির্বিকার। এমনকি বোর্ড কিংবা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন। এতে করে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন জেলাগুলোতে সোমবারের (১৩ জুলাই) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাও স্থগিত করার দাবি তুলেছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
পরীক্ষার্থীরা জানান, বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি অনেক এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সোমবারের পরীক্ষা স্থগিত করার দাবি করছেন তারা।
উত্তরার একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন সোহা খাতুন। তিনি রোববার (১২ জুলাই) ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘কী একটা সিচুয়েশন। টানা বৃষ্টি। রাস্তায় জলাবদ্ধতা। বাসায় বিদ্যুৎ নেই। পড়ালেখার উপায়ও নেই। কিন্তু আগামীকাল পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় বসতে হবে। বৈরী আবহাওয়ার বিষয়টি কি শিক্ষামন্ত্রীর চোখে পড়ছে না?’
পুরান ঢাকার একটি কলেজের পরীক্ষার্থী মোস্তফা কায়সার সানি লিখেছেন, ‘সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকার যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে দেশের অন্য জেলাগুলোর অবস্থাও খারাপ। শুধু চট্টগ্রামের পরীক্ষা স্থগিত না করে সব বোর্ডের পরীক্ষা অন্তত এক সপ্তাহের মতো স্থগিত করে রাখা উচিত। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থাটাও বুঝেন। দুর্যোগের মধ্যে পরীক্ষায় বসায়েন না।
