আমার কাগজ প্রতিবেদক
সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে। যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। এর মধ্যে বেড়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের দাম। ফলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে নাভিশ্বাস নিম্ন থেকে উচ্চবিত্ত সবার।
বাজারে এক কেজি সরু চালের দাম ৭০ টাকার ওপরে। ৬০ টাকার নিচে কোনো চালই নেই। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ২০০ টাকা লিটার। গরুর মাংসের কেজি ৮৫০ টাকা আর খাসির মাংস তো সাধ্যের বাইরে। চড়া সবজির দামও।
রাজধানীর করাইল বস্তিতে থাকেন খাদিজা আক্তার। তিনজনের সংসার চলে বাসের হেল্পার স্বামীর আয়ে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলসহ এক রুমের ভাড়া দিতে হয় ১২ হাজার টাকা। যা গত বছর ছিলো ১০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে হিমশিম খেতে হয় প্রতি মাসে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়েছে মধ্যবিত্তের ঘরেও। আজিমপুরে ২ রুমের ফ্ল্যাটে ৪ জন থাকেন ব্যবসায়ী মিঠু সরদার। বাসাভাড়া, খাবার খরচ, সন্তানের লেখাপড়া- সব খরচ ৫০ হাজার টাকাতেও মেটানো কঠিন।
মূলস্ফীতির চাপ রয়েছে উচ্চবিত্তরাও। অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম নিজে ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও আয় করছেন। আর্থিক সচ্ছ্বলতা থাকলেও আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলছে না।
তিনি বলেন, আর্থিকভাবে সচ্ছ্বল, তাদেরও মূলস্ফীতির চাপ সইতে হয়। তাদের আয়–খরচ দুটোই বেশি। মূলস্ফীতি বাড়লে তাদের খরচ আরও বেড়ে যায়।
বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে, কারও আয় তিন ডলারের কম হলে তিনি দরিদ্র। এদেশে এমন মানুষ রয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নতুন করে ঝুঁকিতে পড়েছে।
ক্যাব কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, আমাদের যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আছে, সেখানে একটা ব্যবস্থা রাখা যাতে পারে। অথবা বিকল্প তাদের আয়ের ব্যবস্থা করা যায় কিনা, সেটা করতে পারলে যেসব সীমিত আয়ের মানুষ কষ্টে আছে; তা সমাধান হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারকে শ্রেণি ভিত্তিক পরিকল্পনা নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
