আমার কাগজ প্রতিবেদক
অবশেষে পুলিশের পদোন্নতি জট খুলতে যাচ্ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আজ বিকেলে বসতে যাচ্ছে বহুল কাঙ্খিত সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সভা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সূত্র মতে, পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের কর্মজীবনের বিবরণ, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন, গোয়েন্দা সংস্থার ভেটিং রিপোর্টসহ সব ধরনের নথি অনেক আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এসএসবি সভা না হওয়ায় আটকে যায় পদোন্নতি প্রক্রিয়া। এতে করে পুলিশে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে একদিকে পুলিশ ক্যাডার কর্মকর্তাদের বৈষম্যের সীমা দীর্ঘ হতে থাকে। অন্যদিকে পদ অনুযায়ী কর্মকর্তা না থাকায় অনেক উইং নেতৃত্ব শূন্য হয়ে আছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের বিভিন্ন ক্যাডারের মধ্যে নিয়মিত পদোন্নতি হলেও পুলিশের উচ্চপদে পদোন্নতি দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে। অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও উপমহাপরিদর্শক পর্যায়ে একাধিক শূন্যপদ থাকার পরও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অভাবে পদোন্নতি হচ্ছে না। এতে করে নিচের ধাপের পদোন্নতিও স্থবির হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব পড়ছে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে প্রায় দেড় যুগ বাহিনীর অভ্যন্তরে দলবাজি চলেছে। পদোন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে দলীয় ও আনুগত্য বিবেচনায়। সেখানে পেশাদারিত্বের কোনো মূল্য ছিল না। এতে মুষ্টিমেয় কিছু লোক সুবিধাভোগী হলেও বঞ্চিত থেকে যায় বৃহৎ অংশ। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বিক্ষোভকারীদের টার্গেট পুলিশ বাহিনী হলেও সেখানে নিপীড়িত ও বর্বরতার শিকার হয়েছে সাধারণ সদস্যরা। কেননা, অভ্যুত্থান টের পেয়ে বিগত সময়ের সুবিধাভোগীরা আগেই সটকে পড়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশকে ‘জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক’ বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল। সংস্কারের লক্ষ্য হলো পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, জনবান্ধব এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা। এর মূল উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরাধ দমন, নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ এবং বাহিনীর ভেতর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কিন্তু পুলিশ সেই আগের অবস্থানেই বহাল রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাহিনী অভ্যন্তরে চেইন অব কমান্ডকে কঠোরভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কোনো তদ্বির কিংবা দলবাজি নয়, পেশাদারিত্ব বিবেচনায় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করতে হবে। এতে করে বাহিনীর স্থবিরতা দূর হওয়া চাড়াও সুনাম বৃদ্ধির পথ সুগম হবে।
