স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপ যেন মেতেছে কে কার চেয়ে কত দ্রুত সময়ে গোল করতে পারে সেই প্রতিযোগিতায়। কয়েক ঘণ্টা আগেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৭১ সেকেন্ডে গোল করে চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন মরক্কোর ইসমায়েল সাইবারি। কিন্তু সেই রেকর্ডের আয়ু বেশিক্ষণ টিকতে দিল না প্যারাগুয়ে। কয়েক ঘণ্টা বাদেই সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডের মাথায় দূরপাল্লার বুলেট গতির শটে বল জালে জড়ান প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালারজা। সাইবারিকে ছাড়িয়ে গালারজার গড়া এই দ্রুততম গোলের ওপর ভর করেই তুরস্ককে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ১০ জনের প্যারাগুয়ে।
এই জয়ে প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ স্বপ্ন বেঁচে রইল। তবে টানা দুই হারে হাইতির পর দ্বিতীয় দল হিসেবে চলতি আসরে বিদায় নিশ্চিত হলো তুরস্কের।
প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া প্যারাগুয়ে এদিন মাঠে নেমেছিল ভিন্ন এক রূপ নিয়ে। ম্যাচের শুরুতে গালারজার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর পুরোটা সময় তারা তুরস্কের একের পর এক আক্রমণ বুক দিয়ে ঠেকিয়েছে। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে বড় ধাক্কা খায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। মার্ত মুলদুরের উদ্দেশ্যে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে আপত্তিকর মন্তব্য করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন প্যারাগুয়ের তারকা মিগুয়েল আলমিরন।
দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া প্যারাগুয়েকে পেয়ে আক্রমণের তীব্র ঢেউ তোলে তুরস্ক। পুরো ম্যাচে রেকর্ড ৭৯ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে প্যারাগুয়ের গোলবারে মোট ৩২টি শট নেয় তুর্কিরা। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও প্রায় ৩০টি শট নিয়েও গোলবঞ্চিত থাকা তুরস্কের জন্য এই ম্যাচটি যেন ছিল আগের ম্যাচেরই হুবহু কার্বন কপি। আরদা গুলের ও কেনান ইলদিজদের মতো তারকা ফরোয়ার্ডদের চরম ফিনিশিং ব্যর্থতায় এবারও একটি বল জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি।
গোলখরায় ভুগে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার বেদনায় নীল তুরস্কের কোচ ভিনসেনজো মন্তেল্লা। তবে কারো ওপর দোষ না চাপিয়ে ফুটবলার লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমি খুবই দুঃখিত, তবে একই সাথে আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত তারা মাঠে নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। ফুটবল আসলে এমনই, এই ফল আমাদের মেনে নিতেই হবে।”
এদিন ভাগ্য যেন পুরোপুরি ছিল প্যারাগুয়ের দিকেই। তুরস্কের নেওয়া ৩২ শট বিপরীতে তাদের দল ১০ জনে পরিণত হওয়া সব ছাড়িয়ে এলো জয়। তাই তো ম্যাচ শেষে রোমাঞ্চিত গোলদাতা গালারজা বলেন, “একজন কম নিয়েও আমরা যে লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছি, তা আমাদের দলের আসল শক্তি। ঈশ্বর প্যারাগুয়ের পক্ষে ছিলেন।”
নকআউট নিশ্চিত করতে আগামী ২৬ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে প্যারাগুয়ের। অন্যদিকে স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা পূরণ করতে একই দিনে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে নামবে তুরস্ক।
