ড. ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ
দেশের একটি কাঠামোগত ও স্থিতিশীল সরকার গঠনে তরুণ সমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি হলো তার তরুণ প্রজন্ম, যারা তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, অদম্য সাহস এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে রাষ্ট্রযন্ত্রে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম। একটি গণতান্ত্রিক ও কাঠামোগত সরকার ব্যবস্থায় তরুণদের অংশগ্রহণ কেবল ভোট প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নীতি নির্ধারণ, রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাদের সক্রিয় ভ‚মিকা অপরিহার্য। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, রাষ্ট্র সংস্কার এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তরুণরাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, যা একটি সুসংগঠিত সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করে। আধুনিক বিশ্বে তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষতার ফলে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম অনেক বেশি সচেতন। তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার দাবিতে সোচ্চার। একটি কাঠামোগত সরকার গঠনে তরুণরা যখন সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হয়, তখন সেখানে মেধা ও মননের সংমিশ্রণ ঘটে, যা গতানুগতিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের ভ‚মিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত। একটি দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর বিবর্তন এবং রাষ্ট্রসংস্কারের প্রক্রিয়ায় তরুণরা সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে, যেখানে তরুণরা কেবল মিছিলের কর্মী হিসেবে নয়, বরং নীতিনির্ধারক এবং সংস্কারক হিসেবে আবির্ভ‚ত হয়েছে। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতি এখন আর কেবল বংশপরম্পরা বা গৎবাঁধা অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি এখন মেধা, প্রযুক্তি এবং স্বচ্ছতার এক নতুন সমীকরণের মুখোমুখি। তরুণ প্রজন্মের এই উত্থান মূলত গতানুগতিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের অনাস্থা এবং একটি বাসযোগ্য, ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তরুণদের প্রধান ভ‚মিকা হবে ‘জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ প্রতিষ্ঠা করা। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পেশিশক্তি, পরিবারতন্ত্র এবং দুর্নীতির যে আধিপত্য ছিল, তরুণ প্রজন্ম তার মূলে আঘাত হেনেছে। আধুনিক শিক্ষা ও বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গিতে বলীয়ান তরুণরা এখন রাজনীতির প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা দাবি করছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে জনমত গঠন করছে, যা আগেকার প্রথাগত রাজনীতির ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তরুণরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে কোনো নেতা আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ঘটবে। তাদের এই সচেতনতা ভোটারদের মধ্যেও প্রভাব ফেলছে, যার ফলে আগামী দিনের নির্বাচনগুলোতে প্রার্থীরা কেবল প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দিয়ে নয়, বরং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও চারিত্রিক সততা দিয়ে জনগণের মন জয় করতে বাধ্য হবেন।
তরুণদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন একটি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের জন্য প্রয়োজন। কাঠামোগত সরকার বলতে এমন একটি ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করে। তরুণরা এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে পারে তাদের কারিগরি দক্ষতা এবং বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহারের মাধ্যমে। বিশেষ করে ই-গভর্ন্যান্স এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে তরুণ প্রজন্মের ভ‚মিকা অতুলনীয়, যা সরকারের সেবাকে সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস করে। এছাড়া, তরুণরা যেহেতু ভবিষ্যতের অংশীদার, তাই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের প্রস্তাবনা ও পরিকল্পনা সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্ববহ। তারা কেবল রাজপথের আন্দোলনকারী নয়, বরং গবেষণাগার থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত সব জায়গায় মেধার স্বাক্ষর রেখে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব সরকার গঠনে সহায়ক ভ‚মিকা পালন করতে পারে।
আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে তরুণদের প্রধান দায়িত্ব হলো তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করা। বর্তমান বিশ্বে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বা ডিজিটাল সাক্ষরতা অপরিহার্য। তরুণরা যদি প্রযুক্তির কেবল ভোক্তা না হয়ে এর উদ্ভাবক হতে পারে, তবেই একটি দেশ দ্রুত সমৃদ্ধি লাভ করবে। বাংলাদেশেও আমরা এর প্রতিফলন দেখছি; ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ কালচার এবং ই-কমার্সের প্রসারে তরুণরাই মূল ভূমিকা রাখছে। তরুণ উদ্যোক্তারা প্রথাগত চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করছে, যা জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির একটি বড় বৈশিষ্ট্য। এছাড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে গবেষণার হার বৃদ্ধি করা জ্ঞানভিত্তিক সমাজের অন্যতম শর্ত। তরুণ গবেষকদের নতুন নতুন আবিষ্কার কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে তরুণ নেতৃত্বের পথে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রথমত, মানসম্মত শিক্ষার অভাব। অনেক উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষাব্যবস্থা এখনও মুখস্থ বিদ্যা নির্ভর, যা তরুণদের সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করে। দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল বিভাজন (Digital Divide)। শহর এবং গ্রামের তরুণদের মধ্যে প্রযুক্তির সুযোগ-সুবিধার যে পার্থক্য, তা দূর করা না গেলে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তৃতীয়ত, মেধা পাচার বা ‘Brain Drain’। উচ্চশিক্ষিত তরুণরা যখন নিজ দেশে উপযুক্ত মূল্যায়ন ও কর্মসংস্থান পায় না, তখন তারা উন্নত দেশে পাড়ি জমায়, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের ক্ষতি। চতুর্থত, তরুণদের রাজনৈতিক ও সামাজিক সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত থাকা। অনেক ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রবীণদের আধিপত্যের কারণে তরুণদের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি উপেক্ষিত হয়।
আমরা যে পরিবর্তন প্রত্যাশা করি তা যে শান্তিপূর্ণ পথে, সংলাপ ও বির্তকের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়, সেটা হংকংয়ের প্রতিবাদী তরুণরা নিশ্চিত করেছে। তারা চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে নির্দয় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা ও ভীতি থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ভবিষ্যৎকে নিজেদের হাতে তুলে নেয়ার বলিষ্ঠ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। হংকংয়ের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা রক্ষার জন্য তারা সামনে এগিয়ে গিয়েছে; পেছনে ফিরে তাকায়নি কিংবা অগ্রজদের নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষা করেনি। মূল চীনের পক্ষ থেকে মারাত্মক হুমকিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে হাজার হাজার প্রতিবাদী তরুণ হংকং সিটি সেন্টারে সমবেত হয়। তরুণদের উত্থানের প্রাথমিক কারণ হিসেবে কাজ করে চীন সরকারের বলপ্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন এবং তার বিরুদ্ধে জনগণের অসন্তোষ। তারা পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্গ করে তোলে। হংকংয়ের ওপর প্রবলতর ক্ষমতা প্রয়োগ করার চৈনিক প্রতিজ্ঞাকে প্রতিহত করে দেয় তরুণ প্রতিবাদীরা, যাদের বেশিরভাগ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পুলিশের আক্রমণাত্মক হামলা তারাই প্রতিহত করে। শেষ পর্যায়ে তারা দুটি ক্যাম্পাসে তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকেই নেতৃত্ব আসতে হবে।ব্যারিকেড তৈরি করে অবস্থান গ্রহণ করে। তাদের অধিকাংশকে জেলে ঢুকানো হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় তাদের একজন নিহত হয়; কিন্তু তরুণরা কখনও ছাড় দেয়নি কিংবা আন্দোলন থেকে সরে পড়েনি। এটাই নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমের শক্তি। তারা ছিল তাদের জনগণের শ্রেষ্ঠ সন্তান।হংকংয়ে যেসব সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে গিয়ে মানবাধিকার লংঘন করেছে, তাদের ওপর বিধিনিষেধ জারির জন্য চলতি সপ্তাহে আমেরিকার কংগ্রেস প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি বিল পাস করেছে এবং তরুণদের উত্থানকে সমর্থন জানিয়েছে।পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিবাদী তরুণরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে গণতান্ত্রিক লক্ষ্যগুলোর জন্য নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। হংকং সরকারকে ধন্যবাদ যে তারা পুলিশ ব্যবহার করে নির্বাচনী বিজয় ছিনিয়ে নেয়নি।
তরুণদের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তরুণদের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে আসার সুযোগ করে দিতে হবে এবং তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। যখন একটি দেশের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তরুণদের অন্তর্ভুক্তি ঘটে, তখন সরকার আরও বেশি গতিশীল ও সময়োপযোগী হয়ে ওঠে। মেধাভিত্তিক রাজনীতি এবং নীতি-আদর্শের চর্চা তরুণদের মাধ্যমেই সম্ভব, যা একটি ভঙ্গুর প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে একটি সুসংগঠিত ও কাঠামোগত রূপে রূপান্তর করতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, তরুণরা হলো একটি রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি। তাদের মেধা, দেশপ্রেম এবং পরিবর্তনকামী মানসিকতাকে যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে একটি দুর্নীতিমুক্ত, শক্তিশালী এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোগত সরকার গঠন করা সম্ভব, যা দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে টেকসই করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে।
তরুণদের এই অগ্রযাত্রায় কিছু বাধা এখনও বিদ্যমান। পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলো অনেক সময় তরুণদের জায়গা দিতে কার্পণ্য করে। এছাড়া তরুণদের মধ্যে সঠিক রাজনৈতিক দর্শনের অভাব বা অতি-আবেগ অনেক সময় হিতে বিপরীত হতে পারে। এই সংকট নিরসনে তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতো গণতান্ত্রিক চর্চাগুলো নিয়মিত করতে হবে। অভিজ্ঞতা এবং নতুনত্বের সংমিশ্রণ ঘটাতে পারলে বাংলাদেশের রাজনীতি একটি শক্তিশালী ভিত্তি পাবে। ২০২৬ সালের বাংলাদেশ যে সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার সফল সমাপ্তি কেবল তরুণদের সক্রিয় এবং গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সম্ভব।
নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যে শূন্যতা বিরাজ করছে তা পূরণ করতে এগিয়ে আসতে হবে নতুন প্রজন্মকে। যদি তারা বর্তমানকে রূপদান না করতে পারে তাহলে তাদের এবং এ দেশের ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে না। তরুণদের উপলব্ধি করতে হবে, তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বিরাট আশা ধ্বংস হতে বসেছে। তাই তাদের তারুণ্যের শক্তি ও উদ্দীপনাকে ব্যবহার করতে হবে রাজনীতিতে সম্মান ও মর্যাদাবোধ এবং নিঃস্বার্থ জনসেবার আদর্শ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে। আমাদের ছেলেমেয়েদের জন্য সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন করার ব্যাপারে আমরা সবাই যে উদাসীন ছিলাম তা নয়। তবুও স্বীকার করতে হবে, আমাদের মধ্যে গোলামির মানসিকতা দৃঢ়মূল থাকার কারণে অনেকের সাহসী ভ‚মিকাও ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের শিক্ষিত লোকদের সুবিধাবাদী মানোভ্যারও উপেক্ষা করার মতো নয়। তরুণদের অবশ্যই মর্যাদাবোধের অধিকারী হতে হবে। মর্যাদাবোধের অভাব আমাদের জাতীয় সমস্যা। বর্তমানের নায়ক নতুন প্রজন্ম, ভবিষ্যতের নির্মাতাও হবেন তারা। তাই তাদের জেগে উঠতে হবে, নেতৃত্ব দিতে হবে। স্বপ্নকে সার্থক করতে এগিয়ে আসতে হবে। দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির মধ্যে কোনো মর্যাদাবান জাতি বেঁচে থাকতে পারে না।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি হবে তরুণদের মেধা ও সাহসের প্রতিফলন। তারা কেবল ভোটার নয়, তারা পরিবর্তনের নির্মাতা। রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ যত বৃদ্ধি পাবে, রাষ্ট্র তত বেশি আধুনিক ও মানবিক হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের তরুণরা প্রমাণ করেছে যে, তারা কেবল স্বপ্ন দেখতে জানে না, বরং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে জীবন বাজি ধরতেও প্রস্তুত। যদি রাজনৈতিক দলগুলো এবং রাষ্ট্র তরুণদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারে, তবে অচিরেই বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই সূচিত হবে এক নতুন রাজনৈতিক যুগের, যেখানে অধিকার থাকবে সবার এবং জবাবদিহিতা হবে প্রতিটি পদক্ষেপের মূলমন্ত্র।
লেখক: সাবেক উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপিএবং রোটারি লার্নিং ফেসিলিটেটর, রোটারি ক্লাব, ঢাকা এলিট।
