আমার কাগজ ডেস্ক
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত শীর্ষ নেতার মামলার রায় আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে। সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনান।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে এই আসামিরা নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। তাঁদের ভূমিকার কারণে দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যা ও দমন-পীড়ন সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি (চিফ প্রসিকিউটর) মো. আমিনুল ইসলাম আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছেন।
শুনানিতে প্রসিকিউটররা জানান, ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ বা যৌথ অপরাধের দায় হিসেবে আন্দোলন দমনে একজন নিহত হলেও আসামিরা সমানভাবে দোষী বলে গণ্য হবেন। তাঁদের দাবি, অডিও-ভিডিওতে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির নির্দেশের প্রমাণ মিলেছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়েছেন। ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও আরাফাতের আইনজীবী এম হাসান ইমাম দাবি করেন, জনগণের জানমাল রক্ষার্থেই ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, এই নির্দেশনার মূল কমান্ড বা দায়ভার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার, যাঁকে এই নির্দিষ্ট মামলায় আসামি করা হয়নি। এছাড়া সাক্ষীরাও সরাসরি এই তিনজনকে জড়িয়ে কোনো কথা বলেননি।
যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের আইনজীবী ইশরাত জাহান দাবি করেন, আসামিদের সরাসরি সহিংসতায় জড়িত থাকার কোনো ভিডিও প্রমাণ নেই। তাঁরা মূলত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কিছু বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং অধীনস্থদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর এই মামলায় প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি বিচারকাজ শুরু হয়। ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৭ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন আদালত।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক এটি হতে যাচ্ছে সপ্তম রায়। এর আগের ছয়টি রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মোট ৬১ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে।
