আমার কাগজ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে কাফনের কাপড়, গোলাপ জল, আগরবাতি ও চিরকুট পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিরকুটে লেখা ছিল—‘আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে দিন। না হলে আপনার পরিণতি ভয়ংকর হবে।’
রোববার (১৯ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকার ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়ের (ভুক্তভোগীর স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান) ঠিকানায় পার্সেল পাঠিয়ে এ হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী।
পুলিশ ও জিডি সুত্রে জানা যায়, রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকার ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়ের ঠিকানায় একটি পার্সেল পাঠানো হয়। ভৈরব এসএ পরিবহন থেকে পাঠানো ওই পার্সেলের প্রেরক হিসেবে হরিদাস, আশুগঞ্জ এবং মোবাইল নম্বর (০১৭৩৮৮-৩৩৩২৯) উল্লেখ করা হয়। প্রাপক হিসেবে ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুকের নাম ও তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়।
ওইদিন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় তার ছেলে মুন্তাসির মাহমুদ ঈশান দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে পার্সেলটি রিসিভ করেন। পরে বাসায় গিয়ে বাক্সটি খুললে ভেতরে এক গজ সাদা কাফনের কাপড়, একটি গোলাপ জল, একটি আগরবাতি ও একটি চিরকুট পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ভৈরব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার মো. ফারুক বলেন, ‘আমি দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ভৈরব পৌরসভায় অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও নিয়ম-কানুন মেনে দায়িত্ব পালন করে আসছি। পৌরসভার কোনো কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি বা বিধিবহির্ভূত আবদারকে কখনো প্রশ্রয় দেয়নি। সরকারি বিধি রক্ষায় আমাকে সবসময় কঠোর অবস্থান নিতে হয়েছে। ধারণা করছি, আমার এ কঠোর ও আপসহীন ভূমিকার কারণে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা অপরাধী চক্র আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এই জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি মানুষকে সরাসরি কাফনের কাপড় ও মৃত্যুর হুমকি পাঠানোর মতো ঘটনা শুধু আমাকে নয়, আমার পুরো পরিবারকে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করেছে।’
জানতে চাইলে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস বলেন, আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখচ্ছি।
