আমার কাগজ ডেস্ক
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই কম্পনের জেরে দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন নিহত ও ৭০০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে, বহু মানুষ আটকা পড়েছেন এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে গ্যাস সরবরাহও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ডেলসি রদ্রিগেজ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, লা গুয়াইরা শহরে বহু ভবন ধসে পড়েছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘প্রকৃত ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
এদিকে ফ্যালকন প্রদেশের গভর্নর ভিক্টর ক্লার্ক জানিয়েছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে একটি ভবন ধসে অন্তত ১৫ জন এখনও আটকা পড়ে আছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নোতিফ্যালকনের তথ্য অনুযায়ী, ধসে পড়া ভবনটির নাম ‘লা মার স্যুইটস’। ফ্যালকন প্রদেশের ক্যারিবীয় উপকূলজুড়ে থাকা বহু হোটেল ও আবাসিক ভবনগুলোর মধ্যে এটি একটি।
ভিক্টর ক্লার্ক বলেন, প্রদেশের পূর্ব উপকূলজুড়ে বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ১০টা পর্যন্ত তুকাকাস শহরের একটি হাসপাতালে ৩৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে নোতিফ্যালকন।
এদিকে ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তার স্বার্থে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এল ইউনিভার্সাল পত্রিকার বরাতে তিনি বলেন, ‘কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা চাই না গ্যাসসংক্রান্ত কোনও দুর্ঘটনা ঘটুক।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়।
সাতসকালে ৬.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান
সংস্থাটি বলেছে, ‘ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আর ভয়াবহ এই দুর্যোগের প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।’
ইউএসজিএসের হিসাব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হওয়ার আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ। আর ১ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে—এমন আশঙ্কা ৩০ শতাংশ।
এছাড়া ভূমিধস এবং মাটির তরলীকরণ বা ‘লিকুইফ্যাকশন’-এরও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে। মূলত ভূমিকম্পের সময় আলগা মাটির স্তর তরলের মতো আচরণ করলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাকে লিকুইফ্যাকশন বলা হয়। এটি অনেকটা ভূমিধসের মতো ক্ষতির কারণ হতে পারে।
