আমার কাগজ প্রতিবেদক
বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসে ৯৫টি কারখানা বন্ধ ও ৬১ হাজার ৮৮১ শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার তথ্য দেওয়ার পর সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, ওই তথ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থাটি।
ধানমন্ডিতে সিপিডি অফিসে সোমবার ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শিরোনামে সংলাপে কারখানা বন্ধের ওই তথ্য তুলে ধরা হয়।
পর দিন মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে সিপিডি দাবি করেছে, তথ্যটি গত ২২ অগাস্ট ঢাকা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে নেওয়া হয়েছিল। তবে তিন দিন পর ২৫ অগাস্ট বিকালে সংবাদ প্রতিবেদনটি সংশোধন করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রতিবেদন তৈরির সময় আমাদের পক্ষ থেকে তথ্যটির মূল উৎস যাচাই করা হয়নি। পরবর্তীতে দেখা যায়, ঢাকা ট্রিবিউনের আগের সংবাদটিতে গত ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি সংবাদের মূল সময়কাল পরিবর্তন করে জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ উল্লেখ করে। এর ফলে এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
“অসাবধানতাবশত বিভ্রান্তি সৃষ্টির ফলে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।…সিপিডির গবেষণা দল ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্যগত বিভ্রান্তি এড়াতে আরও সতর্ক থাকবে।”
সোমবারের সংলাপে বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমের মূল্যায়ন প্রতিবেদন তুলে ধরেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
প্রতিবেদনের ১১ নম্বর স্লাইডে শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক অধ্যায়ে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অগাস্ট সময়কালে তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে (গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী) ৯৫টি কারখানা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মহীন হয়েছেন।
তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংসদীয় ও মন্ত্রী পর্যায়ের বিবৃতি, জাতীয় বাজেট, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শিরোনামের প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উৎসের সহায়তা নেওয়ার কথা বলছে গবেষণা সংস্থাটি।
কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ার ওই তথ্য ধরে ‘দ্য ডিসেন্ট’ এর প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে সিপিডি। গবেষণা সংস্থাটি তার প্রতিবেদনে তুলে ধরা তথ্যে বিভ্রান্তি থাকার কথা স্বীকার করেছে বিবৃতিতে।
সিপিডির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও তাদের নেতারা শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে আসছেন, যা আমাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ কারণেই আমরা বিষয়টি তুলে ধরেছি।
“উল্লেখ করা তথ্যে বিভ্রান্তি থাকলেও অর্থনীতির এই বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ অমূলক নয়। আমরা মনে করি এক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।”
