আমার কাগজ ডেস্ক
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং আগামী দিনে এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও গভীর করতে উভয় দেশ কাজ করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
৩১ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত সপ্তাহে ম্যানিলায়ও সার্জিও গরের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছিল। একই সফরে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, অভিবাসনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এটি ছিল স্বল্পপরিসরের বৈঠক, তাই ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সামগ্রিক দিকনির্দেশনাই আলোচনার মূল বিষয় ছিল।
বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয় প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বাংলাদেশ যে মানবিক সহায়তা পায়, তার অর্ধেকেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রের অবদান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ বা এ-সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে এ বৈঠকে আলোচনা হয়নি।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সব পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে। এটি ধারাবাহিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার অংশ।
আওয়ামী লীগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র কিংবা মানবিক করিডোরের মতো রাজনৈতিক বিষয়গুলো এ বৈঠকে আলোচনায় আসেনি বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক (ট্যারিফ) ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ট্যারিফ কোটা সুবিধা দিয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশে উৎপাদিত পোশাকে মার্কিন তুলা বা মার্কিন উৎপাদিত ম্যান-মেইড ফাইবার ব্যবহার করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও বেশি সুবিধাজনক প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে।
মানবাধিকার ও র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এ বৈঠকে র্যাবের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি। বিষয়টি একটি চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এ দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সার্জিও গরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ব নতুন প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এআই বৈশ্বিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠবে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিভিন্ন দেশের নীতিগত অবস্থান বিবর্তনশীল হওয়ায় চূড়ান্ত মন্তব্য করার সময় আসেনি।
