স্পোর্টস ডেস্ক
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং কূটনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সিরিজ দেখাচ্ছে নতুন আশার আলো। সাম্প্রতিক প্রতিবেশী দুই দেশের কূটনৈতিক অগ্রগতিকে কেন্দ্র করে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে এসে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলতে পারে ভারত।
ভারতের ক্রিকেটভিত্তিক নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্রিকেট অঙ্গনেও স্থবিরতা কাটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
বিসিবির বছরের শুরুতে দেয়া সূচি অনুযায়ী, এ বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারত বাংলাদেশে আসবে। তিন ওয়ানডে হবে ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। তিন টি-টোয়েন্টি ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। ওয়ানডে সিরিজ হওয়ার কথা ঢাকায়। টি-টোয়েন্টি চট্টগ্রামে। তবে সফরটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। কারণ, ভারত সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপরই নির্ভর করছে ভারতীয় দলের সফর।
এর আগে গত ১৪ জুলাই সিরিজের সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রির জন্য আহ্বান করা ‘এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট’ (ইওআই) প্রক্রিয়া স্থগিত করে বিসিবি। এরপর থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বোর্ডের ভেতরে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
ভারতের এই সফর মূলত আগেই হওয়ার কথা ছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নির্ধারিত সময়ে সফরটি বাস্তবায়ন হয়নি। পরে তা পিছিয়ে দেয়া হলেও দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনে সিরিজটি দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যেই আটকে থাকে। শুধু পুরুষ নয়, ভারতের নারী ক্রিকেটারদেরও বাংলাদেশ সফর ঝুলে আছে।
নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন নেতৃত্ব ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিসিবির বর্তমান কর্মকর্তারা মনে করছেন, দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট চালু থাকলে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। সেই কারণেই সিরিজটি আয়োজনের বিষয়ে তারা আশাবাদী।
এছাড়া গত সপ্তাহে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘বিগত সময়ের ছোট্ট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে একটা টানাপোড়েন হয়েছিল, আমি মনে করি সেটাকে কাটিয়ে উঠে আমরা সুন্দরভাবে পার্শ্ববর্তী সব দেশের সঙ্গেই আমাদের যে ক্রীড়া কূটনীতি, আমাদের যে যোগাযোগ, চলাচল-সবকিছুই খুব স্বাভাবিকভাবে চলমান থাকবে।’
তবে ভারত যদি নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসে, তাহলে এর প্রভাব পড়বে ভারত-আফগানিস্তান সিরিজের সূচিতেও। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) ১৩, ১৫ ও ১৭ সেপ্টেম্বর দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। বাংলাদেশ সফর নিশ্চিত হলে সেই সিরিজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
সময় পরিবর্তনের সুযোগও খুব বেশি নেই। কারণ, ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হবে এশিয়ান গেমস এবং ২৭ সেপ্টেম্বর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে ভারত। ফলে সেপ্টেম্বর মাসের সূচি নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে সূক্ষ্ম পরিকল্পনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আফগানিস্তান সিরিজের সম্প্রচার নিয়েও রয়েছে ভিন্ন বাস্তবতা। ম্যাচগুলো ভারতের মাটিতে হলেও আয়োজক আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তাই ভারতের নিয়মিত হোম সিরিজের সম্প্রচারক নয়, বরং এসিবির নির্ধারিত সম্প্রচার প্ল্যাটফর্ম থেকেই ম্যাচগুলো দেখানো হবে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন সম্ভব না হওয়ায় প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। পরে ভারতেই সিরিজ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফলে ভারতের মাটিতে হলেও এই সিরিজে কাগজে-কলমে স্বাগতিক থাকবে আফগানিস্তান, আর ভারত খেলবে অতিথি দল হিসেবে।
দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর এখন ভারত সরকারের দিকে। প্রতিবেশী দেশটির সবুজ সংকেত মিললে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও মাঠে দেখা যাবে ভারত ও বাংলাদেশের লড়াই।
