আমার কাগজ প্রতিবেদক
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে অধিকতর কার্যকর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রণীত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-কে স্বাগত জানাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।
কমিশনের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুস্মিতা পাইক ও মহাসচিব মোহাম্মদ তৌহিদ খানের যৌথ স্বাক্ষরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ মর্মে অ্যাসোসিয়েশন মনে করে।দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে অ্যাসোসিয়েশন আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছে।
আমরা বিশ্বাস করি, নবপ্রণীত এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে কমিশন মানবাধিকার সুরক্ষায় আরও সক্রিয়ও শক্তিশালী ভূমিকা পালনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে।জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এ উল্লিখিত- রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠান বা শৃঙ্খলাবাহিনী বা অন্য কোন ব্যক্তিকর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা ও যেকোনো সময় যেকোনো স্থান পরিদর্শনের এখতিয়ার; কমিশনের আদেশ প্রতিপালনে বাধ্যবাধকতা এবং এক্ষেত্রে ব্যত্যয়ে দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান; ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অনুকূলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বা ক্ষেত্র মত জরিমানা ধার্যও আদায়ের বিধানসমূহ জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষায় কমিশনকে অধিকতর কার্যকর ও গতিশীল করে তুলবে। একই সাথে, প্রতিটি বিভাগে কার্যালয় স্থাপনসহ পূর্ণাঙ্গ আর্থিক স্বাধীনতার বিধান কমিশনের কার্যক্রমকে দৃশ্যমানও বিস্তৃত করবে।এই অধ্যাদেশের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরো সুদৃঢ় হবে।
দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানবাধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই অধ্যাদেশে উক্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করায় অ্যাসোসিয়েশন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে।সেই সাথে অধ্যাদেশে কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত ধারা ২৮ এর উপধারা ৩ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করবে মর্মে অ্যাসোসিয়েশন আশা করছে।
আসন্ন কমিশনের নেতৃত্বে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে সার্বিক কার্যক্রম পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।
