আমার কাগজ প্রতিবেদক
রাজধানীর কুর্মিটোলায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা মোটরসাইকেল মিছিল থেকে পুলিশের টহল গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও আর্মি গলফ ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, সকালে বনানীর দিক থেকে ৭০ থেকে ৮০টি মোটরসাইকেলের একটি বহর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে কুড়িল বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিল। বহরটি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে মিছিল থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি পুলিশের ‘গলফ ক্লাব ৮৩’ নামের টহল গাড়িটি লক্ষ্য করে একটি ককটেল নিক্ষেপ করেন। এতে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটলে গাড়ির চালক কনস্টেবল মো. এনামুলের বাম চোখে আঘাত লাগে।
আহত পুলিশ সদস্যকে প্রথমে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদের নির্দেশে এই ঝটিকা মিছিলটি বের করা হয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মুখে নিষিদ্ধ এই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যান।
ডিএমপির মিডিয়া শাখার উপকমিশনার আখতার হোসেন তিনজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্যরা মিছিল করার সময় তাৎক্ষণিকভাবে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তাঁদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলায় জড়িত অন্যান্য মোটরসাইকেল আরোহীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
