আমার কাগজ ডেস্ক
কুমিলার মুরাদনগর এলাকার ১১ নং রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পাঁচ কিত্তা গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
গত ৩০ আগস্ট রাত ৮ টায় এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় আহত হয়েছে কয়েকজন। এ ঘটনায় পুলিশ কন্যা ৯ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা মুরাদনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ২।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বাসায় বিদ্যুৎ না থাকায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বসতবাড়ির উঠানে বসে সময় কাটাচ্ছিলেন। এসময় আসামি হারুন, শফিকুল, মাইনুদ্দিন, রিফাত, জেবায়ের হাছান রকিব উদ্দিনসহ সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র, রাম দা, ছুরি এবং লাঠিসোটা নিয়ে বসতবাড়িতে প্রবেশ করে পুলিশ কর্মকর্তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। হামলার সময় পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তিনিও গুরুতর আহত হন। এসময় বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর, বাড়িতে থাকা নগদ দেড় লক্ষ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণ অলংকার লুট করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পুলিশ কন্যা অভিযোগ করে বলেন, আসামীদের সাথে বাড়ির সীমানা বিরোধের জের দীর্ঘদিন যাবত। আমার বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাড়ি নির্মাণ করলে সেখানে তাদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। গত ১২ আগস্ট বাড়ির নির্মাণ কাজের জন্য রড, সিমেন্ট, ইট ও বালি নিয়ে আসলে আসামিরা বাড়ির কাজ বন্ধ করতে বলে। যদি নির্মাণ কাজ বন্ধ না করি তাহলে আমাদের উপর হামলা ও জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।সর্বশেষ গত ৩০ আগষ্ট রাত ৮ টার দিকে হারুনের নেতৃত্ব সংঘবদ্ধ দল নৃশংস হামলা চালায়। পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে কোন রকম আমার বাবা মায়ের জীবন বাঁচে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হামলার সত্যতা পায়। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমাদের পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করায় তারা আমাদের প্রতি মুহুর্তে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমার পরিবার। শীঘ্রই জড়িতদের বিরুদ্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মুরাদনগর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল পেয়ে ভুক্তভোগীদের বসতবাড়িতে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিক তদন্তে হামলার সত্যতা পাওয়া যায়। জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলাও রেকর্ড হয়েছে। হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
