আমার কাগজ ডেস্ক
ইয়েমেনের এডেন শহরে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অস্থায়ী কার্যালয় ও প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি-সমর্থিত সরকারের সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত আল-মাশিক প্রাসাদকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।
ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-ইরিয়ানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, হুথিরা প্রাসাদটিতে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। হামলার পর প্রাসাদ প্রাঙ্গণ থেকে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার সময় প্রধানমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অক্ষত থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর দুই দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন।
হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানা থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি ইউসেফ মাওরি জানান, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধান কার্যালয়ে হুথিদের এ ধরনের হামলা ‘প্রথম’। তিনি বলেন, এটি সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত এবং এর ফলে দেশটিতে একটি সর্বাত্মক গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা সৌদি আরব ছাড়াও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিকে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
এডেনে এই হামলার পাশাপাশি দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজেও সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। শহরটি হুথিদের কার্যকর অবরোধের মুখে রয়েছে। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণের জন্য তাইজের কর্তৃত্ব উভয় পক্ষের জন্যই অত্যন্ত সংবেদনশীল।
সরকারি বাহিনীর সহযোগী ‘হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্স’ এবং ‘সাউদার্ন জায়ান্টস ব্রিগেড’ জানিয়েছে, তারা তাইজ প্রদেশের উপকূলীয় ধুবাব বিমানবন্দর সুরক্ষিত রাখাসহ হুথিদের আক্রমণ প্রতিহত করছে। তীব্র লড়াইয়ের মুখে তাইজের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেখানে মানবিক বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা দিয়েছে।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, গত ১১ দিনে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিরা অন্তত ২০ বার হামলা চালিয়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক সংবাদ সম্মেলনে হামলার ফুটেজ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, হুথিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করছে। জোটের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এসব হামলায় ১৭ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল জাজিরাকে জানান, সৌদি জোটের এই সংবাদ সম্মেলনটি মূলত তাদের নিরাপত্তা ও সামরিক ঘাটতি সংক্রান্ত ভাবমূর্তি রক্ষার একটি প্রচেষ্টা। কারণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেদ করে আক্রমণ হওয়া তাদের সক্ষমতার ওপর প্রশ্ন তুলছে। একই সঙ্গে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হুথিদের ভূমিকাও ব্যাপকভাবে নিন্দিত হচ্ছে।
