আমার কাগজ ডেস্ক
ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চলে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার চালানো এসব হামলায় দেশটির বিভিন্ন স্থানে আবাসিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গত দুই মাসে ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া যেমন হামলা জোরদার করেছে, তেমনি ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা ও গুদামে আঘাত হানছে। বর্তমানে উভয় পক্ষই একে অপরের পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক টেলিগ্রাম বার্তায় জানিয়েছেন, শনিবার সকাল থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৫০০টি ড্রোন ছুড়েছে। তিনি বলেন, ‘সীমান্তে সাফল্য না পেয়ে রাশিয়া যুদ্ধের সীমানা অর্থনীতিতে প্রসারিত করেছে। তাদের উদ্দেশ্য খুব স্পষ্ট মানুষকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে সাহায্য করে এমন প্রতিটি স্থাপনা ধ্বংস করা, ইউক্রেনের অর্থনীতিকে অচল করা এবং আমাদের প্রতিরোধ ভেঙে দেওয়া।’
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী জাপোরিঝিয়া, দানিপ্রো এবং ক্রিভি রিহের একাধিক ইস্পাত কারখানা ও শিল্প কমপ্লেক্সে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। তবে নিরপেক্ষভাবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। পাশাপাশি মস্কো নিয়ন্ত্রিত পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলের রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোনের হামলায় তাঁদের তিনজন নিহত হয়েছেন।
এর বাইরে ইউক্রেনের অন্যতম ফ্রন্টলাইন ও দুর্গ শহর ক্রামাতোর্স্কে রুশ বাহিনী সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সিটি কাউন্সিল। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, মাত্র ৯০ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি হামলায় তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।
সিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এগুলো কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়, সাধারণ বেসামরিক গাড়ি। মানুষ তাঁদের দৈনন্দিন কাজে যাচ্ছিলেন।’
