আমার কাগজ ডেস্ক
চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের ১১টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ধাপে ধাপে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর নোটিশ বোর্ডে বন্ধের নোটিশ টানানো হয়। নোটিশ অনুযায়ী, ১ আগস্ট শনিবার থেকে কারখানাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ কার্যকর হবে।
কারখানাগুলোতে কর্মরত প্রায় ৬ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে পর্যায়ক্রমে তাদের বকেয়া ও আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার দিনের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পর তারা কারখানা বন্ধের বিষয়টি জানতে পারেন। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যারা এখনো বেতন তালিকায় রয়েছেন, তাদের আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে সব বকেয়া ও আইনানুগ সুবিধা পরিশোধ করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কর্মী হাশমত আলী বলেন, তিনি ২৭ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত। গত দুই বছর ধরে কাঁচামালের সংকট ও আর্থিক সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল এবং বেতন-ভাতাও অনিয়মিত হয়ে পড়ে। গত কয়েক মাস ধরেই কারখানা বন্ধ হওয়ার আলোচনা চলছিল।
একই প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মচারী আব্দুর রহমান জানান, গত বছর গ্রুপটির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং ব্যাংক হিসাবের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পর থেকেই সংকট আরও গভীর হয়। গুদামে থাকা কাঁচামাল দিয়ে এতদিন উৎপাদন চালানো হলেও এখন সেই মজুতও শেষ হয়ে গেছে। তবে উৎপাদন সীমিত থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, কয়েক মাস আগে ১০০ থেকে ১৫০ জন কর্মীকে সব পাওনা বুঝিয়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সর্বশেষ পুরো কারখানাই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বন্ধ হওয়া শিল্প ইউনিটগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, একটি ফিড মিল এবং আরও কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
এসব কারখানার অধিকাংশই চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চট্টগ্রামে একসঙ্গে এতগুলো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন।
এ বিষয়ে এস আলম গ্রুপের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
