আমার কাগজ ডেস্ক
১৭ জুলাই ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাপ্তাহিক স্বদেশ কন্ঠ’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক খলিলুর রহমানের সপ্তম (৭ম) মৃত্যুবার্ষিকী (১৭ই জুলাই ২০২৬)। ২০১৯ সালের ১৭ই জুলাই তিনি ৬৪ বছর বয়সে ফেনীর ফজল মাস্টার লেনে নিজ বাস ভবনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ৩১ ডিসেম্বর ১৯৫৬ সালে ফেনীতে জন্ম গ্রহণ করেন।
ফেনী জেলা আন্দোলনের অন্যতম নেতা, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সংগঠক খলিলুর রহমান ‘স্বদেশ কণ্ঠ’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছাড়াও ‘ফেনী উন্নয়ন ফোরাম’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ছিলেন ফেনী জেলা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ।
বৃহত্তর নোয়াখালী থেকে ফেনীকে আলাদা করে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পেছনে ও স্থানীয় উন্নয়নে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। তিনি তাঁর কর্ম জীবনে ফেনী প্রেস ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব ছাড়াও ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাথেও যুক্ত ছিলেন। তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয় কৃষক পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ফেনী জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ২১ আগস্ট সাপ্তাহিক স্বদেশ কন্ঠ কার্যালয়ে খলিলুর রহমানের আহবানে ও তাঁরই সভাপতিত্বে সর্বজনীন এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও সমাজসেবক খলিলুর রহমান ” আমাদের স্বপ্নের জেলা ফেনী, একে মেগাসিটি রূপ দিতে হবে। উল্লেখ করে সূচনা বক্তব্যে ফেনীর উন্নয়নে ২০ দফা দাবী উপস্থাপন করেন। উক্ত সভায় সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে ফেনী উন্নয়ন ফোরাম ‘ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের আত্ম প্রকাশ ঘটে। সেদিন সেখানে ফেনীর বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও সমাজ কর্মীরা অংশ নিয়ে খলিলুর রহমান কে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ২০ দফা দাবী গুলো হলো- ১. ফেনী পৌরসভার চতু:পার্শ্ববর্তী কাজীরবাগ, ধর্মপুর, শর্শদি, পাঁচগাছিয়া, বালিগাঁও, ধলিয়া, কালীদাহ, মোটবী, পাঠাননগর ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করে ফেনী পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করতে হবে।
২. ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া, ফাজিলপুর, ছনুয়া, ফরহাদ নগর, ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সর্ব উত্তরের করেরহাট ইউনিয়নকে নিয়ে নতুন উপজেলা করতে হবে।
৩. বিভাগীয় সদর দপ্তর : ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে নিয়ে প্রস্তাবিত নতুন বিভাগের সদর দপ্তর ফেনীতে স্থাপনের দাবী।
৪. ফেনীতে অবিলম্বে সরকার ঘোষিত ইপিজেড স্থাপন করতে হবে।
৫. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দোস্ত টেক্সটাইল মিল অবিলম্বে চালু করতে হবে।
৬. ফেনীর সোনাগাজীতে বিমানবন্দর, নৌবন্দর, আঞ্চলিক শিল্প জোন, তাপ ও বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সোনাপুর জোরারগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ তরান্বিত করা ।
৭. ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে উন্নীত করতে হবে।
৮. শতাব্দি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ফেনী সরকারী কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করতে হবে।
৯. ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করতে হবে।
১০. ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ, কম্পিউটার ইনস্টিটিউট, ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ২৫% কোটা সংরক্ষণ করতে হবে।
১১. দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের মোহনা বলে খ্যাত ফেনীর পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় ক্রিড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠার দাবী।
১২. ফেনীবাসীর সুবিধার্থে ফেনী – ঢাকা ট্রেন সার্ভিস, বিআরটিসি ও আরো বেসরকারি বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।
১৩. ফেনী- তেমুহনী – সোনাইমুড়ী – চাঁদপুর হয়ে ঢাকার সাথে আঞ্চলিক মহাসড়ক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবী।
১৪. ফেনীর শহীদ জহির রায়হান মিলনায়তন দ্রুত পুনঃনির্মাণ করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে বেগবান করার দাবী।
১৫. দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে থাকা ফেনী- বিলালিয়া ট্রেন পুনরায় চালুর দাবী।
১৬. ১৯৭৪ সাল পূর্ববর্তী জমির দলিলের রেকর্ড রুম নোয়াখালী থেকে ফেনীতে স্থানান্তর করতে হবে।
১৭. রাজাঝীর দিঘীকে জবর দখলের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা ও রাজাঝীর দিঘী এতো সিং দিঘির সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বিজয় বাস্তবায়ন ।
১৮. ফেনী ও সোনাগাজী অঞ্চলে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। ১৯. অবিলম্বে মুছাপুর রেগুলেটর ও বেড়ীবাঁধ কাজ সম্পন্ন করে লোনা পানি থেকে ১.৫ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল রক্ষা করতে হবে।
২০. ফেনীর স্থপতি ও তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক কবি নবীনচন্দ্র সেনের নামে ফেনী শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে শহীদ মেজর সালাউদ্দিন স্কুল মোড় পর্যন্ত ঢাকা- চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের এ অংশটিকে ‘ কবি নবীন চন্দ্র সেন স্মরণি * নামকরণ করা হোক।
এ সকল দাবী খলিলুর রহমানের দীর্ঘদিনের। এর আগেও তিনি ফেনী জেলার উন্নয়ন কল্পে বহু দাবী দাওয়া সরকার থেকে আদায় করেছেন। ফেনীর বিলোনী- যাতে ভারত বাংলাদেশ স্থলবন্দর চালুর দাবী নিয়ে বহু লেখালেখী করে তা আদায় করেছেন। তিনি ফেনী সরকারী কলেজ ও জিয়া মহিলা কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স’,
নতুন কালেক্টরেট ভবন, সার্কিট হাউজ,, মহুরী নদীর উপর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, নতুন জেলা কারাগার নির্মানের জন্য বহু লেখালেখী করেছেন।
খলিলুর রহমান নিজের ও পরিবারের জন্য চিন্তা না করলেও ফেনীর উন্নয়নে ভাবতেন সব সময়। ফেনী জেলা আন্দোলনের জন্য তিনি কারাগারে পর্যন্ত গিয়েছেন। মৃত্যুর আগ মূহুর্ত পর্যন্ত তিনি ফেনী ও ফেনীর উন্নয়ন নিয়ে কথা বলে গেছেন।
