
আমার কাগজ ডেস্ক
সৌদি আরবে গত এক সপ্তাহে ২৩ হাজারের বেশি অবৈধ প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একাধিক ঘটনায় জড়িত থাকার কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে রোববার (১৬ মার্চ) সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। খবর গালফ নিউজের।
এতে বলা হয়েছে, গত ৬ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে ২৩ হাজার ৮৬৫ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ১৬ হাজার ৬৪৪ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনে ৩ হাজার ৮৯৬ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৩২৫ জন রয়েছেন।
সৌদি আরবের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থা যৌথ অভিযান চালিয়ে এই বিদেশি শ্রমিকদের গ্রেপ্তার করেছে।
এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় এক হাজার ৪৩২ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইথিওপিয়ান ৬৭ শতাংশ, ইয়েমেনি ২৯ শতাংশ এবং অন্য দেশের ৪ শতাংশ নাগরিক রয়েছেন।
একই সময়ে অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টা করায় আরো ৯৭ জন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন এবং আশ্রয় দেয়ায় সৌদিতে বসবাসরত ১৩ ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশটিতে ৩৯ হাজার ৯৭৬ জন বিদেশি শ্রমিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩০৭ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৩০৭ জন নারী।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৩২ হাজার ৮২৫ জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর আগে ভ্রমণের প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে।
পাশাপাশি আরও ২ হাজার ৩১১ জনকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সময়ে গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১০ হাজার ৩৩১ জনকে ইতোমধ্যে সৌদি আরব থেকে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে অবৈধভাবে প্রবেশে সহায়তার চেষ্টাকারী ব্যক্তির ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে বারবার সতর্ক করে দিয়ে আসছে।