আমার কাগজ প্রতিবেদক
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের সংগ্রাম এখনও চলমান। এ বাস্তবতায় কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনকে সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না; রাষ্ট্র পরিচালনার চরিত্র, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য কোনো ব্যক্তি বা দলের ক্ষমতায়ন নয়; বরং জনগণের সার্বভৌমত্ব, আইনের শাসন, মানবিক মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মধ্যেই এর প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক, নিরপেক্ষ ও কার্যকর রূপে পুনর্গঠন করতে না পারলে জনগণের ত্যাগ ও আকাঙ্ক্ষা পূর্ণতা পাবে না।
আজ মহানগর জেএসডি আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।
শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন আরও বলেন, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত জাতীয় ঐকমত্য গঠন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা। বিভাজন ও সংঘাতের রাজনীতি নয়, বরং অংশগ্রহণমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিই বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল ও মর্যাদাবান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারে।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর মৌলিক সংস্কার, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জেএসডি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে। জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, কার্যকর স্থানীয় সরকার, জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দল নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। তিনি মনে করেন, কেবল সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে নয়, বরং রাষ্ট্রের চরিত্র ও ক্ষমতা কাঠামোর গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়েই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হতে পারে।
সভার সভাপতির বক্তব্য মহানগর যুগ্ম সমন্বয়ক ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী মহানগর জেএসডির সভাকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড গতিশীলকরণ এবং রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সংগ্রামে দলের করণীয় নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মাইনুর রহমান,বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.নাসিম,নুরুল আমিন,আবদুল মান্নান মুন্সি,এম এ আউয়াল,কামরুল আহসান অপু, আবুল হোসেন মিয়া,কামরুল হুদা লাভলু,নাসির উদ্দিন স্বপন,মাইনুল আলম রাজু,বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল পাশা, শাহানা সুলতানা, আরিফা আকতার বেবী,মোহাম্মদ জসিম ইউসুফ,শহীদ চৌধুরী প্রমুখ।
