আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ২০২৬ সালের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফোরামের সভাপতি বর্জে ব্রেন্ড সিএমজি’র সাথে বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। বার্ষিক সম্মেলনের বিষয়বস্তু ‘সংলাপের চেতনা’তে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তিনি আহ্বান জানান: আমরা আরও সংলাপ চাই, বিশ্বের নেতাদের একসাথে আসা এবং ‘জয়-জয়’ চিন্তাভাবনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হচ্ছে তা দেখতে চাই।
ফোরামের সাম্প্রতিক প্রকাশিত ‘২০২৬ সালের বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি প্রতিবেদন’ থেকে জানা যায়: ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধিতা ২০২৬ সালে বিশ্বের মুখোমুখি হওয়া প্রধান ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজেন্ডাতে আমরা এ সম্পর্কিত একাধিক সাব-ফোরামও দেখতে পেয়েছি, যা সহযোগিতার পথ এবং সংলাপের চেতনার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
এ প্রসঙ্গে, বর্জে ব্রেন্ড বলেছেন, আমরা শীতল যুদ্ধের পর সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি। একই সময়ে, মানুষের ধারণা ছিল যে, এই ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর আরও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে, কিন্তু বাস্তবে বিশ্ব অর্থনীতি শক্তিশালী স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। এ বছরে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩% ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, চীনের প্রবৃদ্ধির হার ৫% অতিক্রম করবে এবং মার্কিন অর্থনীতিও ভালো করছে। আমরা মনে করি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিনিধিত্বকারী অগ্রগণ্য প্রযুক্তি প্রবৃদ্ধি চালাচ্ছে।
অতীতে, বাণিজ্য ছিল প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন। এখন বাণিজ্য এখনও গুরুত্বপূর্ণ হলেও নতুন প্রযুক্তি প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। তাই আমাদের মূল্যায়ন হলো, বৃহৎ আকারের যুদ্ধ বা সংঘাত বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম, তবে এটি ঘটলে পরিণতি অত্যন্ত মারাত্মক হবে। এ কারণেই আমাদের অবশ্যই এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করতে হবে।
বর্জে ব্রেন্ড আরও বলেছেন, আমাদের এখনও সাধারণ স্বার্থের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে হবে। যদি চ্যালেঞ্জ বিশ্বব্যাপী হয়, শুধুমাত্র একটি দেশের মধ্যে সেগুলো সমাধান করা সম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ, সাইবার অপরাধ। প্রতি বছর সাইবার অপরাধের মাধ্যমে চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ ৩ ট্রিলিয়ন, ৪ ট্রিলিয়ন এমনকি ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। নিশ্চয় সবাই একমত হবেন যে এটি স্পষ্টতই ভালো কিছু নয়। তাই দেশগুলোকে অবশ্যই এই ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। এ ছাড়াও, কিছু আইনগত ক্ষেত্রে দেশগুলোরও সংশ্লিষ্ট নিয়ম এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে তার প্রভাব বিশ্বের প্রতিটি ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে। তার মতে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ২০১৭ সালে দাভোসে যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন তা উত্সাহব্যঞ্জক, তিনি সে সময় বহুপাক্ষিকতা ও বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার গুরুত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছিলেন। চীন নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছে, চীন জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছে। একটি বড় দেশের জন্য একতরফাভাবে কাজ করা হয়তো সহজ, কিন্তু চীন সর্বদা ‘একসাথে চললে অনেক দূর যাওয়া যায়’- এ নীতির ওপর জোর দিয়েছে। আমি মনে করি এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমরা বর্তমানে অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি, যেগুলো শুধুমাত্র যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব।
সূত্র:স্বর্ণা-হাশিম-লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
