এ টি এম মোস্তফা কামাল
ব্যাংকিং ব্যবসা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ব্যাংকে টাকা গচ্ছিত রাখলে সেটা সুরক্ষিত থাকবে এবং প্রয়োজনের সময় সেটা উঠিয়ে নেয়া যাবে এরূপ আস্থা রেখেই সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা গচ্ছিত রাখে। ব্যাংক ব্যবসা সঠিকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে পাবলিকের এরূপ আস্থার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আস্থার বিষয়টি আবার নির্ভর করবে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে চলছে কি-না, তার উপর। সঠিকভাবে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে সরকারের উপর। সরকার বলতে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকেই বুঝানো হচ্ছে।
২- ব্যাংকিং ব্যবসার সঙ্গে সারা দেশের সকল মানুষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সেকারণে ব্যাংকিং ব্যবসাকে সুশৃংখল নিয়ম নীতি মেনে চলতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টরে যে কোন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে সেটাকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
৩-ব্যাংক খোলার অনুমতি সরকারই দিয়ে থাকে। ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন সরকারই প্রণয়ন করে থাকে। কোন ব্যাংকে টাকা গচ্ছিত রাখা নিরাপদ- এটা নির্ধারণ করার দায়িত্ব সরকারের,সাধারণ জনগণের নহে। যে ব্যাংকে টাকা গচ্ছিত রাখা নিরাপদ নহে সে ব্যাংককে ব্যবসা চালিয়ে যেতে দেওয়া সরকারের উচিৎ নহে। কোন ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেলে- ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলে- ব্যাংকে কোন অস্বাভাবিক লেনদেন হয়ে থাকলে- ব্যাংকের টাকা তুলে নিয়ে ব্যবসায়িক কাজে না লাগিয়ে বিদেশে পাচার করা হলে- এর দায় চলে আসবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপর।
৪- দেশে কতগুলো ব্যাংক থাকার দরকার সেটা নির্ধারণ করার দায়িত্ব সরকারের। আবার ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে চলছে কিনা সেটা মনিটরিং করে দেখার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপর। একটা গ্রুপ অব কোম্পানি সরকার প্রধানের পৃষ্ঠপোষকতায় এক সঙ্গে ৭টা ব্যাংকের মালিকানা নিজের কব্জায় নিয়ে নিল- যা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন- বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তখন কি করেছিল? প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলেই এটা ঘটেছিল। শেখ হাসিনা নিজে বিষয়টি তদারক করেছিলেন- প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থাকেও তিনি একাজে ব্যবহার করেছিলেন বলে শুনা যায়- কি জঘন্য ন্যাক্কারজনক কান্ড? জনগণ কি একটা গ্রুপ অব কোম্পানিকে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম বহির্ভূত পন্থায় ৭টা ব্যাংক পাইয়ে দিতে তাঁকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল? একটা সরকার প্রধানের জন্য এটা কি শোভনীয় কাজ? লজ্জা শরম বলে তো একটা কথা আছে- ন্যায্য আর অন্যায্য কাজ বলে তো একটা কথা আছে! একটা সরকার প্রধান এরূপ অন্যায্য কাজে জড়িয়ে পড়লে তাঁর পক্ষে সঠিকভাবে দেশ শাসন করা সম্ভব নহে। এরূপ কাজ করিয়ে দিয়ে তিনি নিজে কিংবা তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন? সরকার প্রধানের এরূপ অনৈতিক কর্মকান্ডে নিজেকে জড়ানো একদম উচিৎ হয়নি।
৫- উল্লেখ্য, পাবলিক চেয়ারে বসে ব্যক্তিস্বার্থ/ গোষ্ঠী স্বার্থ/ আত্মীয়স্বজনের স্বার্থ দেখার কোন সুযোগ নেই। পাবলিক চেয়ারে বসে দেশের স্বার্থে/ জনগণের স্বার্থে/ন্যায্যতার ভিত্তিতে কাজ করে যেতে হবে- যারা সেটা করেনি তারা সেটার করুণ পরিণতি ভোগ করেছে- আর যারা সেটা করবে না তাদেরকে করুণ পরিণতি ভোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর লোমহর্ষক করুণ পরিণতির কথা ভাবলে এখনো গা শিউরে উঠে। শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়ে দেশ ত্যাগ করার দৃশ্য অত্যন্ত করুণ।
৬- এখন ব্যাংকিং সেক্টরে সঙ্ঘটিত কিছু অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা যায়-
(১) বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে ২০০৮ থেকে ২০২৩-এই ১৫ বছরে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ছোট বড় ২৪টি অনিয়মের মাধ্যমে ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে।
(২) জামানত ছাড়া এক জন ব্যক্তিকে ৫৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিলে তো দূর্নীতি বাড়তেই থাকবে [জাতীয় দৈনিক, ৭ ফেব্রুয়ারি,২০২৫]
(৩) বড় সাত শিল্প গ্রুপের বেনামী ঋণ পৌনে ২ লাখ কোটি টাকা (জাতীয় দৈনিক – ১৭ এপ্রিল-২০২৫)
ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধন করা প্রতিষ্ঠান বা একেবারেই অস্তিত্বহীন কোম্পানীর নামে এসব ঋণ নেয়া হয়েছে। ঋণের একটি অংশ নেয়া হয়েছে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে আমদানির নামে। ঋণ নিতে ব্যাংক কর্মকর্তারা গ্রুপ গুলোকে সহায়তা করেছে। ঋণের বড় অংশই পাচার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেনামী ঋণের তথ্য পাওয়া গেছে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে। এর পরেই রয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপ। এ প্রক্রিয়ায় আরো রয়েছে নাবিল গ্রুপ-নাসা গ্রুপ- আরামিট গ্রুপ- সিকদার গ্রুপ।
(৪) ২০০৯-২০২৪ সালের মধ্যে সবচেয়ে বেশী লুন্ঠনের শিকার হয়েছিল সরকারের ব্যাংকিং খাত। এসময় ১১টি ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। তন্মধ্যে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ৭টি ব্যাংক ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এর অবস্থান ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ ব্যাংকটির মালিকানা পরিবর্তন করে নিয়ে আসা হলো এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। মালিকানা পরিবর্তনের কাজে শেখ হাসিনা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থাকে ও ব্যবহার করেছিল বলে জানা গিয়েছিল। ২০১৭- ২০২৪ সাল পর্যন্ত এস আলম গ্রুপ বিভিন্ন কায়দায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়েছিল। তাছাড়া, এস আলম তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন ৭টি ব্যাংক থেকে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা লুটে নিয়ে বিদেশে পাচার করে দিয়েছেন [ জাতীয় দৈনিক-১৪ এপ্রিল, ২০২৬]
৭- উপর্যুক্ত ঘটনাগুলোর সবই অস্বাভাবিক ঘটনা। এটা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অগোচরে ঘটেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কি কোন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন? না করে থাকলে কেন করেননি? কারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছিলেন সেটা নিরূপণ করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার অপরিহার্যতা অনস্বীঃকার্য। যে সব ব্যাংক এরূপ অযৌক্তিক ঋণ প্রদান করেছে সে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। এরূপ অস্বাভাবিক ঋণ প্রদান কার্যক্রমের সঙ্গে সরকারের প্রভাবশালী কোন মন্ত্রী/ উপদেষ্টা/ প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা সেটা ক্ষতিয়ে দেখে দায়ী ব্যাক্তি/ ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আবশ্যকতা রয়েছে। উল্লেখ্য, হলমার্ক ঋণ কেলেংকারীর ঘটনার সঙ্গে শেখ হাসিনার সরকারের একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টার জড়িত থাকার কথা শোনা গিয়েছিল- কিন্তু অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোন আইনী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি।
৮- যে ব্যবসায়ী গ্রুপ অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে এরূপ ঋণ গ্রহণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ঋণের টাকা আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবশ্যকতা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে এরূপ ঋণের টাকা সম্পূণ রূপে আদায়ের পূর্বে তাদেরকে কোন ব্যাংক থেকেই আর কোন ঋণ দেয়া সঠিক হবে না। এরূপ খেলাপী ঋণগ্রস্ত কোন ব্যক্তিকে ঋণের অর্থ সম্পূর্ণ পরিশোধ করে দায়মুক্ত হয়ে আসার পূর্বে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার সংগ সম্পৃক্ত করার কোন প্রশ্নই আসেনা। যদি সেটা করা হয় তাহলে সেটা হয়ে যাবে ডাকাতির অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে তার নিজের বিচার নিজে করার জন্যে হাকিমের আসনে বসিয়ে দেয়া। সেরূপ ক্ষেত্রে বিচারিক কার্যক্রম ডাস্টবিনে নিক্ষিপ্ত হবে আর ডাকাত পূর্ব ঘোষণা দিয়ে ঢাকডোল পিটিয়ে ডাকাতির কার্যক্রম দ্বিগুণ গতিতে চালিয়ে যাবে।
৯- লুটপাটের মাধ্যমে যারা অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে যায় তারা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা এবং সম্পদের সুরক্ষার জন্যে লুন্ঠিত সম্পদের একটা ক্ষুদ্র অংশ ব্যয় করে থাকে। যাদের পেছনে এরূপ ব্যয় করা হয়ে থাকে তাদের মধ্যে রয়েছে- প্রচন্ড ক্ষমতাবান ব্যাক্তি যারা তার লুন্ঠন কর্মে সহায়তা দিয়ে থাকে সে যে দলেরই হউক- ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান যারা তার লুন্ঠন কর্ম শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণে সক্ষম- ব্যাংকের এমডিসহ অন্যান্য কর্মকর্তা- দেশী বিদেশি অন্যান্য ক্ষমতাধর ব্যাক্তি/ প্রতিষ্ঠান যারা তার এরূপ অপকর্মে সহযোগিতা দিতে সক্ষম। আওয়ামী লীগেরর শাসনামলে যে ব্যক্তি সরকার প্রধানের আনুকূল্যে সরকারী সকল প্রতিষ্ঠানকে বশীভূত করে ৭টি ব্যাংকের মালিকানা অর্জন করে ২ লাখ টাকা লুন্ঠন করে বিদেশে পাচার করতে পেরেছেন তার কি হিতাকাংক্ষীর কোন অভাব আছে? তার হিতাকাংক্ষীর কোন অভাব নেই। তাইতো দেখা যাচ্ছে তিনি ব্যাংকের মালিকানা ফেরত পাবার ব্যাপারে অনেকদূর এগিয়ে গেছেন।
১০- উল্লেখ্য, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আনুকূল্যে ৮-১০টা গ্রুপ সমগ্র ব্যাংকিং সেক্টরকে লুটেপুটে খেয়েছে যাতে সমগ্র দেশের সাধারণ মানুষ বিশাল ক্ষ্যক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের জন্য অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।
১১- রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সরকার যদি তাকে তার ব্যাংকসমূহের মালিকানা ফেরত দিতে চাহেন তাতে কারো আপত্তি থাকার কথা নহে যদি কিছু পূর্ব শর্ত প্রতিপালন করা হয়- পূর্বশর্তগুলো হচ্ছে- তার মালিকানাধীন ৭টি ব্যাংক থেকে তিনি অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে যে ২ লাখ কোটি টাকা লুন্ঠন করেছেন সেটার পুরোটাই ৭টি ব্যাংকে ফিরিয়ে দিয়ে তাকে দায়মুক্তি সার্টিফিকেট নিতেহবে।
দ্বিতীয়তঃ ব্যাংকের ঋণ দান কার্যক্রমকে সংশোধন করে সিঙ্গাপুর/ ইউরোপ স্ট্যান্ডার্ডে উন্নীত করতে হবে যাতে মালিক পক্ষের কেউ অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে নিজের মালিকানাধীন ব্যাংকের অর্থ লুন্ঠনের কোন সুযোগ না পায়।
তৃতীয়তঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির সংগে তখনকার গভর্ণরসহ অন্য যে সকল কর্মকর্তা জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধে অতি দ্রæত আইনী কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
চতুর্থতঃ যে সব ব্যাক্তি/ গ্রুপ অব কোম্পানী বিভিন্ন ব্যাংকের অর্থ লুটপাটের সংগে জড়িত তাঁদের কাছ থেকে লুন্ঠিত অর্থ আদায়ের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
পঞ্চমতঃ বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যে সব কর্মকর্তা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবশ্যকতা রয়েছে।
১২- জাতীয় সংসদকে সরকারের এরূপ কাজের দায়ভার নিতে হবে। তাই পুরোনোদের লুন্ঠনকৃত পুরো অর্থ আদায়ক্রমে মালিকানা ফিরিয়ে দেবার পূর্বে জাতীয় সংসদে আলোচনাক্রমে সিদ্ধান্ত নেবার আবশ্যকতা রয়েছে।
১৩- সর্বোপরি লুটেরাদের পুনর্বাসনের কোন কর্মসূচী বিএনপি’র নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তুতকৃত জাতীয় সনদেও এরূপ কোন সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত নেই। সুতরাং লুটেরা পূনর্বাসনের কার্যক্রম থেকে সরকারের পিছু হটার আবশ্যকতা রয়েছে।
লেখক: অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব।
